Skip to main content

এক গরিব দুখিনী আর বাঘের গল্প: শিক্ষামূলক গল্প

এক গরিব দুখিনী আর বাঘের গল্প: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - রত্না নামে এক গরিব দুখিনী ছিল। সে ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে নিজের দাদুর কাছে বড় হতে লাগল। প্রথমে বেশ ভালোই চলছিল সব। যেদিন তার বড় মামার বিয়ে হলো। তার বড় মামী বাড়িতে আসতে না আসতেই শুরু হলো রত্নার উপর অমানসিক নির্যাতন। শত হলেও পরের মেয়ে। তাই রত্নাকে তার মামী অনেক কু-কথা বলতো, গালাগালি করতো। কাজ করলেও মারতো, না করলেও মারতো। অন্য কেউ কিছু বলতোও না। এভাবেই চলতে থাকলো কয়েকবছর। একদিন রত্নার মামী বিনা দোষে রত্নাকে খুব মারধর করছিল আর খন্তি গরম করে রত্নার পিঠে ছেকা দিলো। রত্নার কান্না আর চিতকার আর্তনাদ পুরো বাড়িতে শোনা গেল। কেউ একটু ধরতেও এলো না। ঐদিন ঐ বাড়ির পেছন দিয়ে যাচ্ছিল একটা বাঘ। বাঘটা রত্নার এই আর্তনাদ শুনে খুব মায়া হলো রত্নার জন্য। সেই বাঘটা রত্নাকে চুপি চুপি ডাকলো। রত্না তো প্রথমে ভয়েই যেতে চায় না। পরে ঐ বাঘ রত্নাকে বললো, ভয় পেয়ো না রত্না। আমি তোমার উপকার করতে এসেছি। তখন বিশ্বাস করে রত্না ঐ বাঘের কাছে গেল। তখন ঐ বাঘটা একটা দেবতার রূপ ধরে রত্নার সামনে দাঁড়াল। রত্না নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। ঐ বাঘটা বললো, আমি বনের দেবতা।বাঘ সেজেই বনে বনে ঘুরে বেড়াই। কোনো পশুর উপর কেউ নির্যাতন করছে কিনা তা দেখি। আর তুমি তো মানুষ। তোমার ঐ দজ্জাল মামী তোমার উপর এত নির্যাতন করে। তাকে একটা শিক্ষা দিতেই হবে। এই বলে বাঘটা রত্নার হাতে একটা জাদুর চিরুনি দিল। আর বললো, এই জাদুর চিরুনিটা তোমাকে সবসময় সাহায্য করবে। শুধু বিপদে পড়লে চিরুনিটাকে বলো, “ও চিরুনি, ও চিরুনি, শোনো আমার কথাখানি, আমি বড় জনমদুখিনী, বাঁচাও আমায় ও চিরুনি।” তারপর দেখ, কি অবস্থা হয় তোমার মামীর। তো রত্না দেবতার ঐ আশির্বাদ চিরুনিটা নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলো। তারপর আবার তার মামী তাকে মারধর করতে শুরু করলো, আর অমনি রত্না ঐ চিরুনিটাকে মন্ত্রটা পড়ে বলতেই চিরুনিটা রত্নার মামীর মাথায় নিজে নিজেই উঠে তার চুলগুলো আচরিয়ে দিতে লাগলো। আর অমনি রত্নার মামীর পুরা মাথাটা টাক হয়ে গেল। এবার রত্নার মামী ভয়ে আর চুল হারানোর দু:খে খুব কান্নাকাটি করতে লাগলো। আর রত্নাকে আবারও মারতে লাগলো। এমন সময় ঐ দেবতা বাঘের রূপে সামনে এসে হাজির। আর বলতে লাগলো, রত্নাকে আর একবার যদি মারো তাহলে তোমাকে খেয়ে ফেলবো। তারপর থেকে বাঘের ভয়ে ঐ মামি রত্নাকে আর কোনোদিনও মারেনি। তারপর রত্না ঐ বাঘরূপী দেবতার দয়ায় খুব সুখে শান্তিতে থাকতে লাগলো। এর কিছুদিন পর এক সুদর্শন বণিক যুবক ঐ গ্রামে বাণিজ্য করতে্ এসে রত্নাকে দেখে খুব পছন্দ হলো। তারপর সোজা রত্মার মামার কাছে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিল। রত্নারও খুব ভালো লেগেছে যুবকটাকে। তারপর ঐ যুবকের সাথে রত্নার বিয়ে হয়ে গেল। আর রত্না খুব বিশাল এক বড় বাড়ির বড় বউ হয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে লাগলো। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। অনাথ এতিমদের উপর নির্যাতন করলে ঈশ্বর সহ্য করেন না। ঈশ্বর এর বিচার অবশ্যই করেন। 2। কোনো অনাথকে অবহেলা করো না। কারণ হয়তো কোনোদিন তার ভাগ্যে রাজপ্রাসাদও জুটতে পারে। 3। কাউকে অসহায় ভাবা ঠিক না। 4। যেমন কর্ম তেমন ফল। কিছু কিছু অন্যায় অত্যাচারের বিচার সাথে সাথেই হয়ে যায়। 5। তুমি কাউকে অত্যাচার করে কখনও শান্তি পাবে না। সেই অত্যাচারের মাশুল তোমাকে দিতেই হবে। - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - *** বন্ধুরা গল্পটা পড়ে কেমন লাগল কমেন্ট বক্সে মতামত জানাবেন। আর মন চাইলে আপনার বন্ধুদেরকেও গল্পটা শেয়ার করতে পারেন। এত বড় লেখাটা কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সবসময় নতুন নতুন গল্প পেতে অবশ্যই আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ। ***

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...