Skip to main content

দুধওয়ালা ও সুদখোর যদু: লোভের পরিণাম: শিক্ষামূলক গল্প


দুধওয়ালা ও সুদখোর যদু: লোভের পরিণাম: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - গোহাটির হাসানপুর গ্রামে যদু নামে এক কৃপণ, লোভী আর সুদখোর ব্যক্তি ছিল। সে সারাক্ষণ চাইত তার টাকাগুলো যেন একদিনেই হাজার গুণ বেড়ে যায়। খুব লোভী ছিল সে। গায়ে সবাই তাকে পিছে পিছে সুদখোর বলে ডাকতো। একদম বিপদে না পড়লে কেউ তার কাছ থেকে ঋণ নিত না। একদিন এক গরিব দুধওয়ালা খুব বিপদে পড়েই শেষে বাধ্য হয়ে ঐ যদুর কাছে গেল ঋণের জন্য। দুধওয়ালাটা একদম অসহায় ছিল। তার একটা মাত্র গরু ছিল। তাও গতকাল রাতে চোরেরা নিয়ে গেল। তাই সে একদম নিরুপায় হয়ে সুদখোর যদুর কাছে গেল 1000 টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য। তখনকার সময় 1000 টাকা মানে এখনকার 1 লাখ টাকার সমান। তো যদু তো মহাখুশি। মনে মনে ভাবলো পেয়েছি এবার। এই 1 হাজার টাকা সে 2-3 মাসের মধ্যেই 5 হাজার করে নিবে এই দুধওয়ালাকে দিয়ে। তখন যদু বলে উঠলো। তোমাকে 1 হাজার টাকা দিতে পারি বাপু। তবে মাসে মাসে 300 টাকা করে লাভ দিতে হবে। যদু তখন খুব অসহায় ছিল। নেহাত টাকাটা তার ভীষণ দরকার ছিল। তাই সে আগা মাথা চিন্তা না করে যদুর কথায় রাজি হয়ে গেল। দুধওয়ালা ভাবলো এই টাকা দিয়ে সে 4-5টা গরু কিনে দুধ বিক্রি করে ঐ লোভী যদুকে যদি সুদে আসলে টাকাটা বুঝিয়ে দিতে পারে তারপর সে সুখে শান্তিতে গরু নিয়ে ভালোই দিন কাটবে। তাই দুধওয়ালা আগপিছ না ভেবে যদুর কথায় রাজি হয়ে গেল। দুধওয়ালা এই 1 হাজার টাকা থেকে 5টা ভালো দেখে গাই গরু কিনল। সে গরুগুলো আগে থেকেই দুধ দিতো। সেই মালিকগুলো টাকার অভাবেই বেচে দিলো গরুগুলা। দুধওয়ালা সেগুলো কিনে নিলো। তারপর ঐ 5টা গরু দৈনিক 6 লিটার করে 30 লিটার দুধ দিত। সেই 30 লিটার দুধ সে 1টাকা করে দৈনিক 30 টাকা করে আয় করতো। সেই টাকা থেকে দুধওয়ালা ঐ লোভী যদুকে তার সমস্ত টাকা 2-3 মাসের মধ্যেই বুঝিয়ে দিল। এখন দুধওয়ালা খুব সুখে দিন কাটাবে। আর কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু বিধি বাম। ঐ লোভী যদু দুধওয়ালার এই উন্নতি দেখে মনে মনে খারাপ বুদ্ধি করলো, এত সহজেই সে ঐ দুধওয়ালাকে ছেড়ে দিবে না। তাই সে দুধওয়ালাকে ডেকে আনালো আর বললো, কই হে বাপু, আমার লাভের টাকাতো পেলাম, তবে আসল টাকাতো দিলেনা এখনও। এই কথা শুনেতো দুধওয়ালার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। “কি বলেন সাহেব, আমিতো আপনার সব পাওনা কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে দিলাম কাল। লোভী যদু বললো, সব টাকা এখনও শোধ হয়নি। আমি তোমার কাছ থেকে আসল সেই হাজার টাকা পাওনা আছি। ওগুলো এই 1 মাসের মধ্যে দিয়ে দিও। নইলে সব গরু আমি নিয়ে যাবো এই বলে দিলুম। তখন দুধওয়ালা পঞ্চায়েতে নালিশ দিল। সেখানে দুধওয়ালাকে প্রমাণ দিতে বললো। কিন্তু এই লেনদেনের কোনো প্রমাণ ছিল না । তাই দুধওয়ালা ন্যায় বিচার পেল না। তাই বাধ্য হয়ে পরের 1 মাস ধরে আবার হাজার টাকা মিল করে লোভী যদুকে দিলো। তারপর যদুর কি হলো জানো? ঐ লোভী যদুর বউটা আগে থেকেই খুব মোটা ছিল। তার উপর বিভিন্ন রোগে বাসা বেধে রেখেছে। ডাক্তার বদ্যি ডেকেও কোন কুল কিনারা হলো না। শেষে ভালো চিকিৎসার জন্য দূরের শহরে নিয়ে যেতে হলো। অনেক টাকা গচ্ছা গেল সে বারে। প্রায় 11 হাজার টাকা নেমে গেল ঐ বার। একেই বলে লোভী সুদখোরেরা জীবনেও সুখী হতে পারে না।একদিকে না একদিকে এই পাপের টাকার মাশুল দিতে হয়। মানুষকে ঠকিয়ে মেরে খেলে এমনই হয়। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। অতি লোভে তাতী নষ্ট এটা আমরা সবাই জানি। তাই অতি লোভ করা ভালো না। তাতে নিজেরই মস্ত বড় ক্ষতি হয়। 2। একদম নিরুপায় না হলে মোটেই কারো কাছ থেকে সুদে টাকা নেয়া ঠিক না। 3। যদিও বা সুবিধামত কারো কাছে টাকা পাওয়া যায়, তবুও অন্তত হাজার টাকার লেনদেনেও একটা লিপিবদ্ধ প্রমাণ রাখা উচিত। পরে নইলে ঝামেলা হতে পারে। 4। খালি হাত থেকে বুদ্ধি করে ঔ দুধওয়ালা কীভাবে স্বাবলম্বী হলো এটা আমাদের জীবনের জন্য একটা মস্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরাও চাইলে একদম খালি হাত থেকে শুরু করে জীবনটাকে ভালোভাবে গড়তে পারবো। শুধু ধৈয, পরিশ্রম, মনোবল আর সৎসাহস চাই। 5। কাউকে ঠকিয়ে টাকা মেরে খেলে সেই টাকাটা যেকোনো ভাবেই হোক জলে যাবে। তাই কাউকে ঠকিয়ে মেরে খাওয়া উচিত হয়। - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - *** বন্ধুরা গল্পটা পড়ে কেমন লাগল কমেন্ট বক্সে মতামত জানাবেন। আর মন চাইলে আপনার বন্ধুদেরকেও গল্পটা শেয়ার করতে পারেন। এত বড় লেখাটা কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সবসময় নতুন নতুন গল্প পেতে অবশ্যই আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ। ***

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...