Skip to main content

সানস্ক্রিন কিভাবে সূর্যের আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করে ?

সানস্ক্রিনঃ

মানুষ সুন্দরের পূজারী। কম বেশি আমরা সবাই রূপ সচেতন। ত্বকের যত্নে মানুষ অনেক রূপচর্চাও করে থাকে। আর এই ত্বকের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক হল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা পাবার একটি উপায় হল সানস্ক্রিন(sunscreen) অথবা sunblock ব্যবহার করা। বিশেষ করে শীতকালে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে সানস্ক্রিন অথবা sunblock এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই sunscreen বা sunblock ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর আলোকরশ্মি থেকে রক্ষা করে কিভাবে?
সানস্ক্রিন
এই sunscreen ও sunblock শুনতে একই ধরণের মনে হলেও এবং এদের কাজের ধরণ একইরকম হলেও, এদের কাজ করার পদ্ধতিতে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা। সানস্ক্রিন জৈব এবং অজৈব রাসায়নিক পদার্থে তৈরি, যা ত্বকের উপর প্রলেপ সৃষ্টি করে। এ কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারেনা।
অন্যদিকে, sunblock অতিবেগুনি রশ্মিকে ত্বক থেকে প্রতিফলিত করে, যার ফলে এই রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে অক্ষম। কারণ,প্রতিফলনের ফলে এটি ত্বক পর্যন্ত পৌছাতেই পারেনা।  জিংক অক্সাইড (zinc oxide) অথবা টাইটেনিয়াম অক্সাইড (titanium oxide) দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে sunblock এতটা প্রতিফলনশীল হয়। অতীতে কেউ সানব্লক মুখে লাগালেই তার দিকে তাকালেই বুঝা যেত, কারণ এতে অক্সাইড ব্যবহারের কারণে পুরো মুখ সাদা হয়ে যেত। এখন অক্সাইডের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেয়ার কারণে এটি লাগালেও সহজে বুঝা যায়না।
সানব্লক এক ধরণের সানস্ক্রিন। কেননা সানস্ক্রিনের মাঝে সানব্লকের সকল উপাদানই উপস্থিত থাকে। তাই সানব্লক ব্যবহারের চেয়ে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই বেশি কাজে দেয়।

সানস্ক্রিন আসলে কিসের পর্দা?

সানস্ক্রিন মূলত সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মিকে ত্বকে ঢুকতে প্রতিরোধ করে। অর্থাৎ, এটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির জন্য পর্দা হিসেবে কাজ করে। এই অতিবেগুনী রশ্মি আবার তিন ধরণেরঃ
  • UV-A রশ্মিঃ এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ত্বকের ক্যান্সার এবং অল্প বয়সে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার পেছনে দায়ী।
  • UV-B রশ্মিঃ এটি ত্বক কালো হয়ে যাওয়া এবং পুড়ে যাওয়ার, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী।
  • UV-C রশ্মিঃ এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দ্বারা পুরোপুরি শোষিত হয়ে যায়। তাই এটি ত্বকের কোন ক্ষতি করেনা।
সানস্ক্রিনের জৈব উপাদানগুলো সূর্যের এই অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ফেলে এবং সেটি তাপ আকারে শরীর থেকে বের করে দেয়। এর উপাদানগুলোর কোনটি কোন রশ্মিকে প্রতিরোধ করে, সেটা এখানে তুলে ধরলামঃ
  • PABA (para-aminobenzoic acid) এবং Cinnamates সূর্যের UV-B রশ্মি শোষণ করে ফেলে।
  • Benzophenones এবং Ecamsules সূর্যের UV-A রশ্মি শোষণ করে।
  • Anthranilates সূর্যের UV-A এবং UV-B এই দুই রশ্মিই শোষণ করে।

SPF টা আসলে কি?

সানস্ক্রিনের কথা আসলেই SPF এর কথা  অবশ্যই চলে আসে। SPF হচ্ছে Sun protection factor. এটি এমন একটি সংখ্যা, যা আসলে আপনি কতক্ষণ রোদে ত্বক না পুড়ে থাকতে পারবেন সেটি নির্ধারণে সাহায্য করে।
কোন সানস্ক্রিনের SPF যত বেশি হবে, সানস্ক্রিনটি UV-B রশ্মির প্রতিরক্ষায় তত বেশি কার্যকর হবে। ধারণা করা হয়, কেউ যদি ১ ঘন্টা সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে থাকার পরে তার ত্বক পুড়ে যায়, তাহলে SPF ১৫ সানস্ক্রিন শরীরে মাখলে সেটি ১ ঘন্টা X ১৫ = ১৫ ঘন্টা রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। অর্থাৎ এটি সাধারণ সময়ের চাইতে ১৫ গুণ বেশি সময় ত্বককে পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে এজন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ১৫ ঘন্টা যাবৎ একই পরিমাণে বিকিরিত হতে হবে, যা সাধারণ ক্ষেত্রে হয়না।
তথ্যসূত্রঃ
  1. http://chemistry.about.com/od/howthingsworkfaqs/f/sunscreen.htm
  2. http://en.wikipedia.org/wiki/Sunscreen

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...