Skip to main content

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি- টেলিফোন এবং টেলিগ্রাম

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি- টেলিফোন এবং টেলিগ্রাম


টেলিফোন:

প্রথমেই আসা যাক টেলিফোন এর কথায়। প্রথম যখন এমন একটা ধারণা উপস্থাপন করা হল, যে মানুষের কণ্ঠস্বর অনেক দূর পর্যন্ত পাঠানো হয়ত  সম্ভব তখন এটা অনেক টা জাদুবিদ্যার মত শুনিয়েছিল। কিন্তু যখন ১৮৭৬ সালে আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল প্রথম তার "তড়িৎ তারবার্তা" পেটেন্ট করে ফেললেন তখন জাদুবিদ্যার মত শোনানো এই অসম্ভব ব্যাপার বাস্তব হয়ে গেল। এবং রাতারাতি অনেক কিছু বদলে গেল।
প্রথম টেলিফোন
আজ আমরা কত রকমের ফোন, ফোনের বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম, ফোনেই ইন্টারনেট ব্যবহার, কি না করছি ফোন দিয়ে। অথচ একসময় মানুষের কল্পনাতেও ছিলনা এভাবে দূর থেকে একজন এর কন্ঠ আরেকজনের কাছে পৌছানো যায়।
আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল কে টেলিফোন এর আবিষ্কারক বলা হলেও এই নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। বেল যে সময় এটি তৈরি করেন ঠিক একই সময়ে এলিশা গ্রে (Elisha Gray) নামক আরেকজন ও একই যন্ত্র তৈরি করেন। এবং দুইটা ই বৈদ্যুতিকভাবে শব্দ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পরিবহনে সক্ষম ছিল। কিছু সূত্রমতে, এরপর ও বেল কে পেটেন্ট এর অধিকারী ঘোষণা করা হয় কারণ বেল এলিশা গ্রে এর কয়েক ঘন্টা আগে পেটেন্ট এর জন্য ফাইল করেছিলেন।
বেল ১৮৪৭ সালের ৩ মার্চ স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি তার ঝোঁক ছিল। তিনি টেলিগ্রাফ এবং সে সময়ের অন্যান্য প্রযুক্তি এর আবিষ্কার এবং এর ক্রিয়াকৌশল নিয়ে অনেক পড়াশোনা করতেন। তিনি এডিসন এর ফনোগ্রাফ এ ও কিছুটা উন্নতি সাধন করেন। রাইট ব্রাদার্সের উড়োজাহাজ নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রায় ছয় বছর পর তিনি নিজেই উড়তে পারে এমন একটা যন্ত্র বানিয়ে ফেলেন। এছাড়া তিনি একটি মেটাল ডিটেক্টর ও বানিয়েছিলেন।
টেলিফোন আবিষ্কারের আগে বেল টেলিগ্রাফ এর কিছু আপডেট নিয়ে কাজ করছিলেন। প্রথমদিকে বেল চেষ্টা করছিলেন টেলিগ্রাফ এর সাহায্যে বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে কিভাবে একই সময়ে একটার বদলে একাধিক বার্তা পাঠানো যায়। এই সময়ে বেল এবং তার সাহায্যকারী টমাস ওয়াটসন আশা করছিলেন তারা হয়ত টেলিগ্রাফ এর চেয়ে আরেকটু উন্নত এর একটি ভার্সন তৈরি করতে সক্ষম হবেন। তারা এর নাম ও ঠিক করে রেখেছিলেন "হারমোনিক টেলিগ্রাফ " নামে।
এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পরীক্ষার সময় বেল এবং ওয়াটসন লক্ষ করছিলেন যে, বৈদ্যুতিক তারে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শক্তির কারণে বিভিন্ন রকমের শব্দ উৎপন্ন হচ্ছিলো। এর মাঝে তারা এমন একটি ট্রান্সমিটার ও তৈরি করলেন। যেটি বৈদ্যুতিক তারের শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন শ্রবণযোগ্য শব্দ উৎপন্ন করতে সক্ষম। এবং এই পুরো প্রকল্পের আর্থিক অনুদানদাতা ছিলেন গার্ডিনার গ্রীন হাবার্ড  (Gardiner Greene Hubbard) নামের এক ল'ইয়ার। যিনি পরবর্তীতে গ্রাহাম বেল এর শ্বশুর হয়েছিলেন। তার মেয়ে মাবেল এর সাথে বেল এর বিয়ে হয়।
সেদিন ছিল ১৮৭৫ সালের জুন মাসের ২ তারিখ। বেল আবিষ্কার করলেন তার "হারমোনিক টেলিগ্রাফ" থেকে এক অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছে। যেটি কিছুটা ঘড়ির কাঁটার শব্দের মত। এর ৮/৯ মাসের মাথায় বেল প্রথম টেলিফোন এর একটি নকশা তৈরি করে ফেলেন। এবং টেলিফোন তৈরি করার পর তিনি প্রথম যে কথা বলেন টেলিফোন এ তা হল,"Mr. Watson, come here, I want to see you"। অন্য রুমে থাকা তার সাহায্যকারী ঠিক একই অন্য একটি যন্ত্রের সাহায্যে তার কথা শুনছিলেন।
১৮৭৬ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারী তিনি এর পেটেন্ট এর জন্য আবেদন করেন। ঠিক একই দিনে এলিশা গ্রে ও আবেদন করেন। কিন্তু বেল কয়েক ঘন্টা আগে আবেদন করায় ১৮৭৬ সালের ৭ মার্চ বেল কে এর পেটেন্ট দেয়া হয়।
১৮৭৭ সালে Boston এ প্রথম টেলিফোন লাইন স্থাপিত হয়। যেটা Somerville এবং Massachusetts এর সাথে যুক্ত ছিল।
আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল প্রথম শিকাগো থেক নিউ ইয়র্ক এ ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। এটাই প্রথম দূরবর্তী কোথাও ফোন এর মাধ্যমে যোগাযোগ।
সালঃ ১৮৯২
আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৯২২ সালের আগষ্ট এর ২ তারিখ  কানাডায় মৃত্যুবরন করেন। বেল মারা যাওযার পর আমেরিকার সকল টেলিফোনে এক মিনিটের জন্য অবিরাম রিং বাজানো হয। যতটুকু জানা যায় আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল কে সম্মান জানানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছিল।

টেলিগ্রাফঃ

যোগাযোগ ব্যবস্থায় টেলিগ্রাফের আবিষ্কার একটি মাইলফলক এর মত। একটা সময় ছিল দূর দূরান্তে যোগাযোগ করার জন্য মানুষের কাছে কিছু সীমিত এবং সময়সাপেক্ষ উপায় ছিল। বিভিন্ন পোষ মানা পাখির সাহায্যে মানুষ দূরে কারো কাছে খবর পাঠাতো। কিংবা কোনো দূত পাঠাতো খবর নিয়ে। এইরকম কিছু উপায় ছাড়া দূরে কোথাও খবর পাঠানো সম্ভব ছিলনা।
এই অবস্থায় টেলিগ্রাফ এর আবিষ্কার ছিল একটা আশীর্বাদ এর মত। টেলিগ্রাফ দিয়ে মূলতঃ বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফকেই বোঝানো হয়। এটি দিয়ে বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে দূর দূরান্তে কোনো বার্তা প্রেরণ করা হত। এর সাহায্যে শুধু খবরটিকেই পাঠানো সম্ভব ছিল। কিন্তু মূল যে পত্রে খবরটি লেখা থাকত সেটি পাঠানো সম্ভব হত না।
ইতিহাসের প্রথম টেলিগ্রাফ
মূল বার্তা টিকে প্রথমে মোর্স কোড এ কনভার্ট করা হত। এরপর সেই কোডটিকে টেলিগ্রাফ এর প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে অন্য একটি টেলিগ্রাফ এর গ্রাহক যন্ত্রে পাঠানো হত। সেই টেলিগ্রাফ আবার এই কোড পাওয়ার পর সেটাকে ভাষায় রূপান্তরিত করে দিত।
১৮০০ শতাব্দীর শুরু দিকে প্রথম টেলিগ্রাফ তৈরি করেন একজন জার্মান বিজ্ঞানী Samuel Sommering। তার তৈরি টেলিগ্রাফে তড়িৎ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বার্তা প্রেরণ করা হত। কিন্ত তার তৈরিকৃত টেলিগ্রাফ টি ছিল বেশ জটিল। এবং এতে বার্তা প্রেরণের আগে বেশ বিশ্লেষণ এর ব্যাপার ছিল।
১৮৩৩ সালে Carl Gauss এবং Wilhelm Weber নামক অন্য দুই ব্যক্তি ও আরেকটি টেলিগ্রাফ তৈরি করেন।যেটি ছিল একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় টেলিগ্রাফ। এবং এটি দিয়ে ১ মাইলে দূরত্বের মাঝে কোথাও কোনো বার্তা প্রেরণ করা যেত। এই সাফল্য অনুসরণ করে আমেরিকার Dr. David Alter আরেকটি টেলিগ্রাফ তৈরি করেন। যদিও সেটি ব্যবসায়িকভাবে কখন ও কাজে লাগানো হয়নি।
অবশেষে ১৮৩৭ সালে আরেক আমেরিকান আবিষ্কারক Samuel Morse সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক টেলিগ্রাফ আবিষ্কার করেন। যা যোগাযোগ এর জন্য ভিন্ন এক উপায় ব্যবহার করত। সেই একই সময়ে অনেকেই টেলিগ্রাফ এর পেটেন্ট এর জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু সবশেষে সফল হয়েছিলেন Samuel Morse। কারণ তার তৈরিকৃত টেলিগ্রাফটি বার্তা প্রেরণে ব্যবহার করত মোর্স কোড যা ছিল সবচেয়ে সুবিধাজনক। এটি বার্তা কে তড়িৎ সংকেত এর একটি সিরিজ হিসেবে পাঠাতো। যেখানে শর্ট সিগন্যাল ডট(.) এবং লং সিগন্যাল কে ড্যাশ(-) এর মাধ্যমে বোঝানো হত।
আন্তর্জাতিক মোর্স কোড
মোর্স কোড এর অন্যতম আবিষ্কারক ও ছিলেন Samuel Morse। এবং তার নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয় মোর্স কোড।
Samuel Morse ছিলেন Massachusetts এর অধিবাসী। গণিত এবং বিজ্ঞানে তার ছিল প্রবল আগ্রহ, বিশেষ করে তড়িৎ সম্পর্কীয় ব্যাপারগুলোতে। একদিন এক বার্তা বাহক তার কাছে একটি বার্তা নিয়ে এলো। যেখানে লেখা ছিল তার স্ত্রী খুব অসুস্থ। তিনি বার্তা পেয়ে খুবই ভয় পেলেন এবং অসুস্থ স্ত্রী কে দেখার জন্য রওনা দিলেন। কিন্তু তিনি পৌছে দেখেন তার স্ত্রী ইতিমধ্যে মারা গেছেন। তার কাছে অনেক আগেই বার্তা পাঠানো হয়েছিল কিন্তু বার্তা বাহক বার্তা নিয়ে তার কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক দেরী হয়ে গেছে।
তিনি এই শোক কে শক্তি তে রূপান্তরিত করে কিভাবে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বার্তা পৌছানো যায় তা নিয়ে ভাবতে লাগলেন। তিনি তড়িৎ চৌম্বক নিয়ে অনেক পড়াশোনা করলেন এবং এক পর্যায়ে টেলিগ্রাফ এর একটি মডেল ও দাঁড় করিয়ে ফেললেন। এবং তার আবিষ্কৃত এই টেলিগ্রাফ ই একসময় যোগাযোগ এর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠল।
রেফারেন্সঃ
  1. http://www.useofqrcodes.com/history-of-the-telephone.html
  2. http://nearfieldcommunication.org/history-of-the-telegraph.html

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...