Skip to main content

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর 10টি ফুল ও তাদের গল্প

ফুল হলো এই বিচিত্র পৃথিবীর সৌন্দর্য প্রকাশের একটি অসাধারন মাধ্যম। এটি মহান সৃষ্টিকর্তার সুন্দরতম সৃষ্টিগুলোর মধ্যে অন্যতম, এক কথায় বলতে গেলে ফুল বরাবরই সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুলের সৌন্দর্য মানুষের মনকে দারুণ ভাবে প্রভাবিত করে। যদিও সৌন্দর্য সবাইকে একই ভাবে আকৃষ্ট করে না কারণ দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ও নমুনা একেক জনের কাছে একেক রকম। কিন্তু ফুল পছন্দ করে না বা ভালোবাসে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফুলের সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০টি ফুল নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

গোলাপ


গোলাপ যতার্থই ফুলের রাণী। যেমন তার রুপ তেমনি বাহারি সে বর্ণে ও সৌরভে। প্রাচীন কাল হেকেই ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে গোলাপ তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে সবার প্রথমে অবস্থান করছে। যদিও তার আদি নিবাস এশিয়া মহাদেশে কিন্তু সারা বিশ্বে গোলাপ তার পাঁপড়ির গড়ন ও নান্দনিকতার জন্য বিশেষ আবেদন ময়ী। পৃথিবীতে প্রায় ১০০ প্রজাতির গোলাপ রয়েছে তন্মদ্ধে আমাদের দেশে গোলাপী, লাল, হলুদ, সাদা ইত্যাদি বর্ণের গোলাপ সহজলভ্য। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ গবেষণার মাধ্যমে জিনগত বৈশিষ্ট্য উন্নয়ন করে “গার্ডেন রোজ” নামে বিভিন্ন হাইব্রিড গোলাপের উদ্ভাবন করা হচ্ছে যা একই ফুলে দুই বা ততোধিক রঙের পাপড়ি উৎপাদন করতে সক্ষম।

ডালিয়া


সুন্দর ফুলের মধ্যে ডালিয়াও তার নজরকাড়া রুপের জন্য রয়েছে মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। রুপ লাবন্যে ভরপুর এই ফুলের আদি নিবাস মেক্সিকোর গুয়াতেমালায়। উল্লেখযোগ্য ১০ টি শ্রেণীর আওতায় ডালিয়ার রয়েছে প্রচুর জাত। এর বেশকিছু উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গল, স্টার, অ্যানেমিন ফাওয়ার্ড, কলারেট, পিওনি ফাওয়ার্ড, ফরমাল ডেকোরেটিভ ইত্যাদি। ডালিয়া সাধারনত আমাদের দেশে শীতকালে ফোটে।

টিউলিপ


সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় টিউলিপ ফুলের জুরি মেলা ভার। খুব সহজেই টবে চাষাবাদের উপযোগী বলে গৃহের সাজসজ্জার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও টিউলিপ এর ব্যবহার অনেক বেশি। টিউলিপ বসন্তকালীন ফুল যা খাঁটি নীলাভ রঙ ব্যতীত যে কোন রঙের হয়ে থাকে এবং এর ১৫০ প্রজাতি সহ অগণিত সংকর প্রজাতি বিদ্যমান। অটোমান সাম্রাজ্যের সময় কালে তুরস্কে এর উৎপত্তি হলেও ষোঢ়শ শতাব্দী থেকেই ইউরোপে ব্যপক ভাবে এর চাষ হচ্ছে। সমগ্র ইউরোপে অর্থকরী ফসল হিসাবে বাণিজ্যিক ভাবে টিউলিপের চাষ হয় এবং এক হল্যান্ডেই বছরে তিন বিলিয়নেরও অধিক টিউলিপ উৎপাদন ও রপ্তানী হয়। প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ পর্যটক ইউরোপে আসে চোখ ধাঁধানো টিউলিপের বিশাল বিশাল বাগান গুলো দেখতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমগ্র ইউরোপের উৎপাদিত ফুলের বাজার মূল্য প্রায় এগার হাজার মিলিয়ন ইউরো।

চন্দ্রমল্লিকা


অপূর্ব এক ফুল চন্দ্রমল্লিকা যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ক্রিস্যানথিমাম। এর প্রধান আবাস এশিয়া ও উত্তর-পূর্ব ইউরোপে হলেও বেশির ভাগ জাতের আবিস্কার হয় পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোতে বিশেষ করে মধ্য চিন দেশে। এই বৃহদাকৃতির ফুলগুলো সচরাচর সাদা, হলুদ, সোনালী , লাল, গোলাপি ও পটল বর্ণের হয়ে থাকে এবং সোনালী বর্ণের চন্দ্রমল্লিকা দেখলে মনে হয় যেন সোনা দিয়ে তৈরি। নজরকাড়া এই চন্দ্রমল্লিকা ফুল ফোটার সময় অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস। এই সুন্দর ফুলের বিভিন্ন জাত হলো চন্দ্রমুখী, বাসন্তী, মেঘামী, চন্দমা, স্নোবল ইত্যাদি।
অর্কিড

বিশ্ব ব্যাপি বহুলবিস্তৃত ফুল হলো অর্কিড যা পৃথিবীর সব মহাদেশেই দেখা যায়। বিভিন্ন বাহারি রঙ, সুগঠিত আকৃতি, মন মাতানো ঘ্রাণ ও স্থায়িত্বকাল এর ভিন্নতা নিয়ে অর্কিড সুন্দর ফুলের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে সহজেই। সমগ্র বিশ্বজোড়ে মানুষ তার ভালোবাসা, আভিজাত্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসাবে অর্কিড কে বিশেষ ভাবে মূল্যায়ন করে। অর্কিডের প্রায় ৩০,০০০ এর বেশি প্রজাতির মধ্যে আমাদের দেশে এপিফাইটিক ও টেরেস্ট্রিয়াল এই দু ধরনের অর্কিড দেখা যায়। আপনার গৃহকোণ, বারান্দা বা ছাদ বাগান সবখানেই শোভা বাড়াতে টবে অর্কিডের চাষ করতে পারেন।

বাগান বিলাস


বহুরূপী বর্ণের এই ফুল বাগান বিলাস যার নাম শুনে আমাদের দেশি ফুল মনে হলেও এটি মূলত বিদেশি ফুল যার ইংরেজি নাম ‘বোগেনভিলা’। বাগান বিলাস নাম যেমন সুন্দর ঠিক তেমনি দেখতেও অনিন্দ্য সুন্দর এই ফুল আর মজার কথা হলো এই বাগান বিলাস নাম আমাদের কবি গুরু রবি ঠাকুরের দেয়া। বাড়ি বা যেকোন স্থাপনার শোভাবর্ধক উদ্ভিদ বাগান বিলাসের আদি নিবাস দক্ষিন আমেরিকা, ব্রাজিল, পেরু, আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর। এর ১৮টি প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে প্রধানত গোলাপি, লাল, হলুদ আর সাদা প্রজাতির দেখা মেলে।

চেরি


হালকা গোলাপী আভা বা তুষার সাদা রঙের চেরি ফুলের ঋতু খুব সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে যা প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হয়। চেরি ব্লসম বা চেরি ফুল অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয় যা জাপানে সাকুড়া নামে পরিচিত। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর সেরা চেরি ফুলের রাজধানী হিসেবে আমেরিকার জর্জিয়া রাজ্যের ম্যাকন শহর বিখ্যাত। বসন্ত আসলেই চেরি ফুলে ছেয়ে যায় পুরো শহর। আপনি আপনার ভ্রমনের তালিকায় রাখতে পারেন এই শহর, সময় করে ঘুরে আসতে পারেন চেরি ফুলের রাজধানী থেকে কোন এক চেরি ব্লসম উৎসবে।

ব্লিডিং হার্ট


অনিন্দ্য সুন্দর এই ফুলের আদি নিবাস ধরা হয় পশ্চিম আফ্রিকাকে। সাধারনত ঠান্ডা আবহাওয়ায় এটি ভালো জন্মে। হৃদয় আকৃতির এই ফুলের রুপ লাবন্য এতোই সুন্দর যে একবার দেখলেই মনের ভেতর গেথে যাবে। এই ফুল সাধারনত গোলাপী, লাল, হলুদ এবং সাদা বর্ণের হয় কিন্তু গোলাপী পাপড়ি বিশিষ্ট ফুল গুলোই দেখতে বেশি সুন্দর। আবার এই ফুল কে উলটা করে চোখের সামনে ধরলে অন্য রুপে দেখা যায়, তখন তাকে বলা যায় লেডি ইন বাথ।

শাপলা


জলমগ্ন স্থানে শাপলা ফুল ফুটে থাকার দৃশ্য যেমন মনোরম তেমনি মনোরম শাপলা ফুলের রুপ। সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল হলেও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পুকুর ও হ্রদে দেখা যায় এমনকি পাপুয়া নিউগিনি এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকাতেও এর দেখা মেলে। শাপলা ফুল নানা রঙের হয় যেমন, গোলাপী, সাদা, নীল ও বেগুনি এবং এর প্রায় ৩৫টি প্রজাতি আছে। থাইল্যান্ড ও মায়ানমারে এই ফুল পুকুর ও বাগান সাজাতে খুব জনপ্রিয়। আমাদের দেশে নীল শাপলা ফুলকে শালুক বা নীলকমল এবং লাল শাপলা ফুলকে রক্তকমল বলা হয়।

পদ্ম


অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কারনেই পদ্মকে জলজ ফুলের রানী বলা হয়। পদ্ম ফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি অথবা হালকা গোলাপি রং এর হয়। অনেকেই লাল শাপলা আর পদ্ম ফুলের মধ্যে মিল থাকার কারণে চিনতে ভুল করেন কিন্তু এর বীজ পত্রটা ভালো ভাবে দেখলেই পার্থক্য বোঝা যায়। আবার কাশ্মীর আর ইরানে নীল বর্ণের পদ্ম ফুলের দেখা মেলে যাকে নীল পদ্ম বা নীল কমল বলে। পদ্ম ফুল প্রধানত শরৎকালে ফোটে তবে আবার কখনও কখনও বর্ষাকালেও পদ্মের দেখা পাওয়া যায়।
শেয়ার করুন সবার সাথেঃ

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...