Skip to main content

বাসর রাত- ভালোবাসার গল্প


বাসর রাত

বাসর রাত
বাসর ঘরে ঢুকেই নববধূকে বললাম ‘ ফ্রেশ হয়ে আস। মুখের আটা-ময়দা দেখে বলতে পারবনা তুমি চাঁদের মত সুন্দর’ নববধূ আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাল। তারপর বলল ‘বিয়ের আগে আমাকে দেখেননি?’ আমি মুখ বাঁকা করে বললাম ‘হ্যাঁ একবার তো দেখেছিলাম কিন্তু সেদিন আরো বেশি আটা-ময়দা ছিল’ নববধূ আমার দিকে যেভাবে তাকাল মনে হচ্ছে আমাকে চিবিয়ে খাবে। তারপর খাট থেকে উঠে ফ্রেশ হতে যাবার জন্য পা বাড়াল। আমি বললাম ‘তোমার নামটা যেন কি?’ নববধূ ভেংচি দিয়ে বলল ‘বাহ মাত্র একদিনে নামটাই ভুলে গেলেন? কালকে তো মনে হয় বলবেন “এই মেয়ে তুমি এ বাড়িতে কি কর” ‘ আমি জোর স্বরে বললাম ‘নামটা জিজ্ঞেস করেছি আর এত কথা শুনিয়ে দিলে। এত বেশি কথা মেয়েদের মুখে মানায় না।’ নববধূ ‘ইরা’ বলেই ফ্রেশ হতে চলে গেল।
.
আমি বসেবসে হাসছি। আয়নার সামনে গিয়ে হাসছি। এরকম যন্ত্রণা মনে হয় বাসর রাতে কোন মেয়ে পায়নি। ফ্রেশ হয়ে প্যারা ঘরে আবার আসল। এবার চোখেমুখে লজ্জা দেখতে পাচ্ছি। আটা-ময়দা ছাড়া তো ভালই দেখাচ্ছে। গাল ফুলিয়ে বসে আছে। চোখ দিয়ে পানি ঝরবে মনে হয়। আমি বললাম ‘মিসেস প্যারা আপনাকে আটা-ময়দা ছাড়া ভালই দেখাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের নন্দিনীর মত’ নববধূ কাঁদ কাঁদ স্বরে বললে ‘প্যারা কে?’ আমি মুচকি হেসে বললাম ‘একটু আগে না তুমি বললে তোমার নাম প্যারা’ নববধূ এবার কেঁদেই দিবে। বলল ‘ইরা বলেছি ইরা। প্যারা না। আর আপনি কানে কম শুনেন নাকি?’ আমি বললাম ‘প্যারা ম্যাম আপনার পেঁচার কণ্ঠে একটা গান শুনান তো’ নববধূ শুধু পারছেনা আমাকে গলা টিপে ধরতে। বলল ‘পেঁচার কণ্ঠে গান শুনতে হবে কেন? আর আমি গান-টান পারিনা’ আমি খাটে বসলাম।
.
বসে বললাম ‘তো পারটা কি?’ নববধূ দাঁত ক্যালিয়ে বলল ‘আমি কলেজে বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। বেশ মারতে পারি মানুষকে দেখবেন?’ পাশের টেবিলের ভিতরে মশারি ছিল। আমি মশারি নিয়ে ইরার হাতে দিয়ে বললাম ‘মশারি টানাও ঘুমাব।’ ইরা আমার দিকে তাকিয়ে বলল ‘সারা বাড়িতে তন্নতন্ন করে খুঁজলেও মনে হয়না একটা মশা পাওয়া যাবে। আর আপনি মশারি টানাতে বলছেন। আপনার মাথায় যে সমস্যা আছে তা আগে জানতাম না। এতই যদি শখ থাকে তাহলে নিজে টানিয়ে ঘুমান।’ আমি বললাম ‘মশারি টানালেই হবেনা। আমার শরীর কেমন জানি করছে। হাত-পা টিপে দিতে হবে। তারপর কোলে নিয়ে ঘুমাতে হবে’ নববধূ স্বর করে বলল ‘আন্ডায় নিয়ে ঘুমাতে হবে হুহ। মগেরমুলুক নাকি যে যা বলবেন তাই করব?’ আমি মশারিটা টেবিলে রাখলাম।
.
রেখে বললাম ‘আরে বোকা মেয়ে বলে কি? স্বামীর সেবা ব্যাতীত জান্নাতে যাওয়া অসম্ভব। তুমি কি জান্নাতে যেতে চাওনা? আস আস তাড়াতাড়ি মশারি টানিয়ে আমার হাত-পা টিপে দাও।’ নববধূ আঙুল তুলে বলল ‘ওরে বাবা ভাল হাদিস শুনাতে পারেন তো আপনি। তো বাসর রাতে স্ত্রীদের অত্যাচার করা কোন হাদিসে আছে শুনি?’ আমি বললাম ‘মাফও চাই দোয়াও চাই। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। মশারি আমিই টানিয়ে দিচ্ছি আপনি ঘুমান।’ বলে মশারি টানিয়ে দিলাম। একটা বালিশ নিয়ে ফ্লোরে রাখলাম। আমার ফোন, আমার হ্যাডফোন। রাত বাজে বারোটা। আমি হাত-পা ছেড়ে শুয়ে আছি। নববধূ শুয়ে পড়ল। কি মেয়েরে বাবা। আমার প্রতি একটু মায়াও হলনা।
.
একটু পর নববধূ উঠে বসল। রুমের লাইট জ্বালিয়ে বলল ‘উপরে আসেন’ আমি বললাম ‘আমার খাটে শোতে এলার্জি আছে আমি খাটে শোতে পারিনা’ নববধূ ঝাড়ি দিয়ে বলল ‘ঢঙ করবেন না। উপরে আসতে বলেছি উপরে আসেন।’ আমি বললাম ‘না গেলে উপরে কি করবেন?’ নববধূ রেগে বলল ‘তাহলে আর কি আপনার বাড়িতে আপনি খাটে ঘুমাবেন আমি ফ্লোরে।’ আমি বললাম ‘এখন আর আমার বাড়ি নেই। আমাদের বাড়ি।’ নববধূ বলল ‘এত বুঝেন আবার ঢঙ করে নিচে শুয়ে আছেন কেন?’ যা বাবা কথাতেও পটু। আদরের ফোনটা রেখে মশারির ভিতরে গিয়ে শুয়ে পরলাম। আমার কিরকম জানি ভয় হচ্ছে। বিয়ের প্রথম রাতেই এতটা করা ঠিক হয়নি বুঝতে পারলাম। এরকম বাসর রাত কয়জনের কপালেই বা থাকে।
.
ওমা একটু পর নববধূ আমার পায়ের কাছে! আমার পা টিপছে! আমি পা টেনে বললাম ‘এই মেয়ে কর কি?’ নববধূ বলল ‘কেন আপনার সেবা করছি।’ আমি বললাম ‘অনেক সেবা করছ আর করতে হবেনা। রাত তো আর কম হলনা এবার ঘুমাও শান্তিমতে। সারাদিন তো মানুষের চিল্লাচিল্লিতেই ছিলে’ নববধূ বলল ‘তাহলে কি এবার ঘুমাতে পারি স্যার?’ আমি বললাম ‘হুম আর হাত-পা টিপে দিতে পারনি বলে কি হয়েছে কোলে নিয়ে তো ঘুমাতে পার।’ নববধূ শুয়ে বলল ‘আপনার মুখে কিছুই বাধেনা না? এরকম পাগল আপনি। তার উপর আপনি যা মটু আল্লাহ।’ আমি বললাম ‘সেটাও তো ঠিক’ মাঝারাতে ঘুমালে সেই রকমের ঘুম হয়। কিন্তু সকালে উঠে দেখি আমার বুকে ইরা! কোলে করেই ঘুমিয়েছে! আমি বললাম ‘কি ব্যাপার এত মটু ছেলেকে কোলে নিলে যে?’ ইরা বলল ‘সমস্যা কি? আমারই তো বর।।।।।

------সংগৃহীত।

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...