Skip to main content

ভাত খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে?

ভাত খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে?

সংগৃহীত-   27 সেপ্টেম্বর, 2018 09:54



ভাত খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে?
এই প্রশ্নটা প্রায় সকলেই করে থাকেন। কিন্তু সঠিক উত্তরটা কয়জনেরই বা জানা থাকে বলুন। অনেকেই বলেন, ‘ভাত খাস না রে মোটা হয়ে যাবি!’ একবারও কি তারা ঠিক তথ্যটা জানার কষ্ট করেন? মনে তো হয় না। আসুন আমরা সেই আদি কাল থেকে চলে আসা এই ধরণার পোস্টমর্টেম করে দেখি আদৌ ভাতের সঙ্গে শরীরের ওজন বাড়ার কোনও সম্পর্ক আছে কিনা।
সারা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ নানা ভাবে ভাত খেয়ে থাকেন। বিশেষত, এশিয়া মহাদেশে প্রতিদিন ভাত খাওয়া লোকের সংখ্যা সবথেকে বেশি। আর বাংলাদেশ ও ভারতের কথা তো ছেড়েই দিলাম! বাংলাদেশে ভাতের সঙ্গে নানা পদের সমাহারে ভোজন রসিকদের রসনা তৃপ্ত হয়ে থাকে। ভারতের উত্তরের বেশ কিছু রাজ্যে এখনও সেভাবে ভাতের জনপ্রিয়তা না থাকলেও দক্ষিণ ভারতের মানুষদের প্রথম পছন্দ ভাত, তারপর একে একে জায়গা পায় বাকি পদগুলি।
প্রসঙ্গত, একথা অস্বীকার করার নয় যে ভাতের একাধিক গুণ রয়েছে। যেমন ধরুন, আমাদের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভাতের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এত উপকারে লাগার পরেও ভাতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ শরীরে অতিরিক্ত মেদ বৃদ্ধিতে ভাতেরও ভূমিকা রয়েছে।
একথা কি সত্যি? চলুন জেনে নেওয়া সে সম্পর্কে।
ভাতের মধ্যে কী রয়েছে? এতে রয়েছে ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল। শুধু তাই নয় চালের বেশিরভাগটা জুড়েই রাজত্ব করছে কার্বোহাইড্রেট। তাই তো ডায়াটেশিয়ানরা ভাতকে মূলত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন। আর একথা তো সকলেরই জানা যে আমাদের শরীরের কমর্ক্ষমতা বাড়াতে কার্বোহাইড্রটের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তো যারা সারা দিন ব্যাপী কর্মচঞ্চল থাকতে চান তাদের জন্য ভাত খাওয়াটা জরুরি।
তবে একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, কিছু ধরনের কার্বোহাইড্রেট বাস্তবিকই মেদ বাড়ায়। যেমন- সাধারণ চালের ভাত বেশি খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু ব্রাউন রাইস খেলে অতটা ওজন বাড়ে না। শুধু তাই নয়, সাদা ভাতের তুলনায় ব্রাউন রাইসে ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। ফলে নিয়মিত লাল চালের ভাত খেলে ওজন বাড়ার সম্ভবনা থাকে না বললেই চলে।
প্রসঙ্গত, কোনও ধরনের ভাতেই ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে না। তাই শুধুমাত্র ভাত খেয়ে কেউ মোটা হয়ে যান না। ভাতের সঙ্গে অন্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলি যুক্ত হলে, তবেই মোটা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আর এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা সব সময় অল্প পরিমাণে ভাত খাওয়ার পরমার্শ দেন।
সুতরাং সবশেষে একথাই বলতেই হয় যে, সাদা ভাতের পরিবর্তে লাল চালের ভাত খান। আর যদি সাদা ভাত খেতেই হয়, তাহলে তা খান পরিমিত হারে। একথা ভুলে যাবেন না যে মাত্রাতিরিক্ত কোনও জিনিসই শরীরের জন্য ভাল নয়।

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...