Skip to main content

অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে অস্বস্তিতে ভুগছেন? জেনে নিন সমাধান!

অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে অস্বস্তিতে ভুগছেন? জেনে নিন সমাধান!


খেতে আমরা সবাই কম বেশি ভালোবাসি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি। যার ফলে দেখা দেয় নানা ধরণের সমস্যা। যে কোন উৎসবের আনন্দের সাথে যে ব্যাপারটি আমাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সেটা হচ্ছে খাওয়া-দাওয়া। আর যদি সেই উৎসবটি হয় কোরবানির ঈদের মত কোন উৎসব তাহলে তো কথাই নেই। এই সময় বেশি খাওয়ার দাওয়ার প্রবণতা আমাদের মধ্যে খুব বেশি দেখা যায়। সবার বাসা্তেই বেশ ভালো খাবারের আয়োজন থাকে। কিন্তু যত যাই হোক আমাদের স্বাস্থ্যের কথা খেয়াল রেখেই আমাদের খাওয়া উচিৎ। কিন্তু আমরা অনেকেই আছি যারা খাবার দেখলে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারি না। তাই বেশি খাওয়ার পরিণতি হিসেবে আমাদের ভুগতে হয় নানা ধরণের শারীরিক সমস্যায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার অপরকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।
কিন্তু আমরা যদি কোন কারণে বেশি খেয়েই ফেলি তাহলে কি হবে? চিন্তার কিছু নেই! কিছু ব্যাপার মাথায় রাখলে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে যে অস্বস্তি এবং শারীরিক সমস্যা তৈরি হয় তা কমানো সম্ভব।
  • খাওয়ার সাথে সাথে পানি পান না করে, খাওয়া শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।
  • আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
  • সকালে উঠেই লেবু আর মধু এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে গুলে খেলে তা হজমের জন্য এবং মেদ কমাতে সহায়ক।
  • হজমের অস্বস্তি দূর করতে লেবু জলের জুড়ি নেই। লেবু জল হজমের প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দেয়। এতে করে বেশি খাওয়া হয়ে গেলে যে অস্বস্তির মধ্যে পড়া হয় তা দূর হয়। এক গ্লাস জলে একটি লেবুর অর্ধেক অংশ চিপে পান করে ফেলুন। হজমের গন্ডগোল দূর হয়ে যাবে এবং অনেকটা আরাম পাবেন ইন শা আল্লাহ।
  • এছাড়া ইসবগুলের ভুসি খেলেও পেট ভালো থাকে। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার পর ইসবগুলের ভুসি দিতে পারে পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি।
  • বেশি খাওয়া হয়ে গেলে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন; এতে দেহে ক্লান্তি এসে ভর করে। কিন্তু আপনি যদি বেশি খেয়ে শুয়ে পড়েন তবে আপনার সমস্যা আরও বেড়ে যাবে।
  • বেশি খাওয়া হয়ে গেলে সবচাইতে বেশি যে সমস্যাটি হয় তা হল, বুক জ্বালাপোড়া করা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এক গ্লাস জলে লেবুর রস ও সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। যদি এতে সমস্যার সমাধান না হয় তবে অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেয়ে দেখুন। এতে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দূর হবে ইন শা আল্লাহ।
  • ডাবের পানি এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। চাইলে ডাক্তারের পরামর্শে ম্যাগনেসিয়াম সাইট্রেট ট্যাবলেট খেতে পারেন।
  • মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি ইত্যাদি গুরুপাক খাবার যখন খাবেন, তখন খাবারের সঙ্গে প্রচুর সালাদ খাবেন। কারণ সালাদ খাবার হজমে সাহায্য করে। এছাড়া প্রতি বেলার খাবারে অবশ্যই বেশি বেশি সবজি খাবেন। টক দই, বোরহানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) ইত্যাদি খাবার হজমে সহায়ক। এগুলো খাবার পর খেতে পারেন।
  • যারা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কিডনির সমস্যা, গেটেবাত, হৃদরোগ ইত্যাদিতে ভুগছেন, তারা অবশ্যই ডাক্তারের বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মত পরিমিত পরিমাণে গোশত খাবেন।
  • প্রতিবেলা মাংস না খেয়ে একবেলা হলেও মাছ খান। যেমন- রাতের খাবারে মাছ রাখতে পারেন। কারণ মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ভালো।
  • বেশি মাংস খাওয়া হয়ে গেলে দিনে সবজি, সালাদ, ফল, ডাল খেয়ে ব্যাল্যান্স করুন।
  • খাবার দেখেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে, আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করুন। নিজেকে সংযত করুন এবং পরিমিত আহার করুন।
  • বেশি ক্ষুধা লাগিয়ে না খেয়ে অল্প ক্ষুধা লাগলে খান, এতে কম খাওয়া হবে। খাবার আগে পানি খেয়ে নিন অথবা দাওয়াতে যাওয়ার আগে সালাদ, ফল ইত্যাদি কম ক্যালরির সহজ পাচ্য খাবার বা পানীয় খেয়ে নিন। তাহলেও কম খাওয়া হবে।
  • কোন বেলা বেশি খেয়ে ফেললে বা দাওয়াত থাকলে অন্য বেলা রুটি, সালাদ বা স্যুপ খেয়ে ব্যাল্যান্স করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে শর্করা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।
  • কোমল পানীয় বা চিনি যুক্ত পানীয় না খাওয়াই ভালো। এসবের বদলে ফলের চিনি ছাড়া জুস, বোরহানি, টক দই, পুদিনা লাচ্ছি, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে পারেন।

এছাড়াও নিচের খাবারগুলিও বেশ উপকার দেয়ঃ

রেমেডি জুসঃ

‘হার্ট ভেইন ক্লিনার” হিসেবে পরিচিত হারবাল উপাদান দিয়ে তৈরি রেমেডি জুস হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ওজন কমাতে এবং হার্টের ব্লক দূর করতে অনবদ্য ভেষজ সমাধান। রসুন,আদা, লেবু, মধু, আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে তৈরি রেমেডি জুস পান করতে পারেন হজম শক্তি বাড়ানো এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য। তবে রেমেডি জুস সব যায়গায় পাওয়া যায় না। আপনি চাইলে ঘরে বসে আমাদের খাসফুড শপ থেকে রেমেডি জুস অর্ডার করতে পারেন

চা-কফিঃ

চা-কফি খেতে পাবেন। স্বস্তি পাবেন। তবে বেশি চা কফি না খাওয়াই ভালো। কারণ এগুলো ডাই ইউরেটিক হিসেবে কাজ করে। শরীর থেকে পানি বের করে শরীরে দ্রুত পানি স্বল্পতা তৈরি করে। তাই চা-কফি খেলে বেশি করে পানি খেয়ে নিন।

আপেল সিডার ভিনেগারঃ

আপেল সিডার ভিনেগার রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণের পর আপেল সিডার ভিনেগার খেলে ৩৪ শতাংশ ইনসুলিন সংবেদনশীলতার উন্নয়ন করে এবং রক্তে শর্করা পরিমাণ পর্যাপ্ত কমায়। তাই বাসায় সব সময় অ্যাপল সিডার ভিনেগার রাখতে পারেন।

পুদিনাঃ

পুদিনার চা খেতে পারেন বা পুদিনা-লেবুর এক গ্লাস ফ্রেশ শরবত। কারণ পুদিনা দ্রুত আপনার হজমে সাহায্য করবে।

ব্যায়ামঃ

হালকা ব্যায়াম করুন। যেমন হাঁটাহাঁটি করুন কিছুক্ষণ। অন্তত ৩০ মিনিটের হাঁটাহাঁটি আপনার হজমকে ত্বরান্বিত করবে।
যদি কিছুতেই কিছু না হয় তখন একটা এন্টাসিড জাতীয় অ্যান্টি অ্যাসিডিটির ওষুধ খেয়ে নিন। আর পরবর্তীতে একটু সাবধানে খাওয়া-দাওয়া করবেন,তাহলেই হবে। আমাদের মনে রাখা উচিত অতিরিক্ত খাওয়ার অপরকারিতা অনেক। অতিরিক্ত খাবার নয়, পরিমিত খাবারেই খাবারের আসল তৃপ্তি আসে। তাই আমাদের সবসময় বুঝে শুনে পরিমিত খাওয়া দাওয়া করা উচিত। এবং সবসময় বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।
------ সংগৃহীত।

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...