Skip to main content

মহাবিশ্বের রহস্যাবৃত কিছু ঘটনা (পর্ব-১)



কাল পরিক্রমায় পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যাতে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরাও পর্যন্ত অবাক হয়ে যান। যার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত দিশেহারা হয়ে পড়েন। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু রহস্যাবৃত বা আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে যার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা ব্যর্থ হয়েছেন। এই ঘটনা গুলো ঘটেছে তারপরই ঘটনা গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গবেষণা হয়েছে কিন্তু ঘটনাটি কেন ঘটলো বা কি কারণে ঘটলো তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ পাওয়া যায় নি। ফলে ঘটনাগুলো সবার কাছে শুধুই রহস্য হয়েই রয়ে গেছে। আসুন আমরা সেই সব আশ্চর্য ঘটনা গুলোর মধ্য থেকে কিছু ঘটনা জানার চেষ্টা করি।












১. ( হারিয়ে যাওয়া ১০ মিনিট )
এক চমৎকার রৌদ্রজ্জ্বল দিনে আমেরিকার মিয়ামী বিমানবন্দর থেকে একটি বিমান বৈমানিক ও যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়াল দেয়। নিচে কন্ট্রোল রুম থেকে রাডারের সাহায্যে বিমানটিকে পর্যবেক্ষন করছিলেন অপারেটরগন। হঠাৎ রাডার স্ক্রিন থেকে বিমান নিদের্শক বিন্দুটি অদৃশ্য হয়ে গেল। কন্ট্রোল রুমের অপারটেরগন ভয়ে শিঁউরে উঠলেন, এই বুঝি বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল! চারিদিকে আতংকে হুলুস্তুল পড়ে গেল। ঠিক ১০ মিনিট পর বিমানটি আবার রাডার স্ক্রিনে ফুটে উঠলো। পরে নিউজার্সি বিমানবন্দরে সম্পূর্ন নিরাপদে অবতরন করলো বিমানটি। অপারেটরগন তাৎক্ষনিক ছুটে এসে বৈমানিককে পশ্ন করলো, তুমি ১০ মিনিট কোথায় ছিলে? বৈমানিক বেশ অবাক হলো। সে বললো প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই সে এখানে পৌছেছে এবং সে ঘড়িও দেখলো যে সে ঠিক সময়েই অবতরন করেছে। এরপর যা ঘটলো তা সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়। অপারেটরগন বললো তুমি দশ মিনিট দেরিতে পৌছেছো। বৈমানিক অবাক হলো, সে বিমানবন্দরের সকলের সাথে তার ঘড়িটি মিলিয়ে দেখলো যে সত্যিই তার ঘড়িটি ১০ মিনিট স্লো। এরপর ঐ বিমানের সকল যাত্রীদের ঘড়ি পরীক্ষা করে দেখা গেল সকলের ঘড়িই ১০ মিনিট স্লো। এখন পশ্ন হচ্ছে এই বিমানটি ১০ মিনিট কোথায় ছিল? এই বিমানে আরোহীদের জীবন থেকেও বা ১০ মিনিট কোথায় হারিয়ে গেল? উল্লেখ্য, এই কাহিনীটি অবলম্বনে পরবর্তীতে হলিউডে The X-Filesএর ৪র্থ সিজনের ১৭ তম Tempus Fugit তৈরি করা হয়েছিল।

২. (৫০ বছর পূর্বে ফিরে যাওয়া)
১৯৬১ সালের কথা, ওহিয়ো স্টেটের ঝকঝকে নীল আকাশে উড়ে চলেছে একটি বিমান। হঠাৎ নিচের দিকে তাকিয়ে পাইলট অবাক হয়ে গেলেন। ঠিক তার বিমানের নিচে উড়ছে আরেকটি বিমান। কিন্তু এমন অদ্ভূত বিমান তিনি জীবনে আগে কখনও দেখেননি। এমন বিমান যে পৃথিবীতে আছে কিনা তাও তিনি জানতেন না। বিমানটি ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কালীন সময়ের মতো কাঠ ও ত্রিপলের তৈরি। যেটি প্রায় ৫০ বছর আগেকার। ৫০ বছর আগের বিমানের বৈমানিক ৫০ বছর পরেবিমানকে আবার ৫০ বছর পরের বৈমানিক ৫০ বছর আগের বিমানকে দেখছিলেন। এই ঘটনা দেখে বৈমানিক বিস্মিত হয়ে বিমান বন্দরে ফিরে এলেন। তিনি সকলকে তার ঘটনাটি জানালেন কিন্তু তার কথা কেউ বিশ্বাস করলো না। এমনকি সিভিল এভিয়েশন বোর্ডও বিষয়টিকে ধাপ্পা বলে উড়িয়ে দিল। বিস্মিত মনে বৈমানিক একাকিই হণ্যে হয়ে খুঁজতে লাগলেন বিমানটিকে। কারন তিনি জানেন, তিনি যা দেখেছেন তা মিথ্যা হতে পারে না। অনেক খুঁজাখুঁজির পর পাওয়া গিয়েছিল পুরোনো সেই বিমানটিকে এক গ্রামের বড় বৃক্ষের নিচে। বিমানটির সেটের উপর পড়ে থাকা লগবুকে লেখা ছিল - “Strange! A glittering silver coloured plane was flying in the sky. But who built that in this time? It seems to be a plane from 50 years later. It came to me for a crush. But, I was safe by its technics.” লগ বুকের এই লেখাটি লিখেছিলো ১৯১১ সালে জনৈক বৈমানিক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোথা থেকে এলো এই বিমানটি? বা ৫০ বছরের আগের বিমানকে কিভাবে বর্তমান বৈমানিক আকাশে উড়তে দেখলেন? যার উত্তর বিজ্ঞানীরা আজও খুঁজে পাননি।

৩. (আব্রাহাম লিংকনের স্বপ্নের বাস্তবতা)
স্বপ্নে ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি দেখেছিলেন আমেরিকার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। ১৮৬৫ সালের এপ্রিল মাসের ঘটনা। তিনি রাতে একটি বিচিত্র স্বপ্ন দেখেছিলেন। যে স্বপ্নটি তিনি বলেছিলেন এক জনৈক ব্যক্তির কাছে। ব্যক্তিটি তার স্বপ্নটি লিখে রেখেছিলেন এবং তা পরে বর্ননা করেছিলেন। আব্রাহাম স্বপ্নে দেখেছিলেন চারদিকে নিস্তব্ধ পরিবেশের মধ্য থেকে কান্নার সুর শোনা যাচ্ছে। সে কান্নার কারণ খুঁজতে তিনি বিছানা থেকে উঠে গেলেন কিন্তু দেখলেন কোথাও কেউ নেই শুধু কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। তিনি হোয়াইট হাউজের মধ্যে হেটে হেটে কান্নার শব্দের উৎস খুঁজতে লাগলেন। অবশেষে হোয়াইট হাউজের পূর্ব ব্লকের ঘরে আবিস্কার করলেন একটি মৃতদেহ। মৃতদেহের চারপাশ ঘিরে শোক পালনকারীরা কান্নাকাটি করছে কিন্তু তাদের সকলের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা। সৈন্যরা দাড়িয়ে আছে বিষন্ন চেহারায়। তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং একজনকে প্রশ্ন করলেন কে মারা গিয়েছে? সে উত্তর দিল- আমাদের প্রেসিডেন্ট, তিনি হত্যাকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন।
এই স্বপ্ন দেখার ঠিক পাঁচ দিন পর সত্যিসত্যিই হত্যাকারীর হাতে নিহত হয়েছিলেন আব্রাহাম লিংকন। এবং তার স্বপ্ন দেখা হোয়াইট হাউজের পূর্ব ব্লকেই কিছু সময়ের জন্য রাখা হয়েছিল তার লাশ।

এরকম আরও পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন।

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...