Skip to main content

অপেক্ষা- গল্প


আপেক্ষা

আপেক্ষা
আমি বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে, ছোটবেলা বাবা মারা যায়,কিন্তু আমাদের ফ্যামিলি অনেক ভালো হওয়াতে কন প্রবলেম হয়নি, নিজের ভাই নেই কিন্তু আমার চাচার ২ ছেলে আমার আপন ভাইয়ের মতো ওদেরও কোন বোন নেই। বড় ভাইয়া ছোট ভাইয়ার কাছেই আমার যত বায়না। ছোটবেলা থেকে আমি একটু অন্যরকম ছিলাম, আমার জগতটা একদম আলাদা ছিল । যা চাইতাম তাই পাইতাম, কিছু বলতে দেড়ি হত কিন্তু জিনিসটা সামনে পেতে দেড়ি হত না। আম্মু-খালামনি, নানু, ভাইয়াদের চোখের মনি আমি, বড় আম্মু আমার নিজের আম্মুর থেকেও বেশিকিছু, ৪ বছর আগে ভাইয়াদের কাছে বায়না ধরেছিলাম নেট ইউজ করবো ভাইয়ারা না করলো না।
প্রথম ইউজ করতাম migg33 নতুন ছিলাম জানতাম না কি করতে হয় একটা ছেলের সাথে অল্প অল্প চ্যাট হত ওর আইডি টা আমি ভীষণ পছন্দ করতাম এরপর রাতদিন চ্যাট শুরু হয় আমাদের, কত গল্প কত দুষ্টামি, ফোন নাম্বার দেয়া নেয়া হল, আমি মেয়ে বলে ফোন দিলাম না ওই প্রথমে ফোন দিলো, ভয়ে রিসিভ করলাম না, এরপর দিতেই থাকলো ফোন, তারপর রিসিভ করলাম, কথা হলো । তারপর সারাদিন কথা হত আমাদের,রাতেও কথা হত। কথা বলতে অসুবিধা হলে mig তো আছেই । মাঝখানে কিছুদিন যোগাযোগ কম হল তখনি বুঝতে পারলাম ওকে ঠিক কতটা মিস করতেছি।
বেস্ট ফ্রেন্ড অপুকে বিষয়টা বললাম, ও বলল তুই প্রেমে পরেছিস। তারপর অপু ওই ছেলেকে সব বলল । ওর নাম ছিল সাইফুল, পড়তো MMC তে । তখন ও আমায় ফোন করে বলল আমরা যেন ভালো বন্ধু হিসেবে থাকি,আমি রাজি হয়ে গেলাম কারন ওর সাথে কথা বলতে পারাটাই ছিল আমার জন্য অনেক আনন্দের একটি বিষয় । এভাবে দিন যেতে লাগল,ফ্রেন্ড হিসেবে আর ভাবতে পারতাম না । আমি খুব দুষ্টু ছিলাম, সারাদিন শুধু দুষ্টামি আর লাফালাফি করতাম । আমি আইসক্রিম আর চকলেট খুব পছন্দ করতাম, তুমি বলতে আমাদের জখন দেখা হবে তুমি আমাকে অনেক আইসক্রিম আর চকলেট খাওয়াবে, এভাবে আমাদের দিন যেতে থাকলো।
আমি বিবিএ তে ভর্তি হলাম আর ও এম এম সি তে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ এক সাবজেক্ট খারাপ হইছে, ওর কষতগুলো শেয়ার করতাম, ওকে পাগলের মতো ভালবাসতাম এখনো পাগলের মতই ভালবাসি, আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না ওর জখন কোনও অসুখ হতো বা বিপদে পড়ত সবার আগে আমি বুঝতে পারতাম কিভাবে যেন, পরে বুঝছি মনের মিল থাকলে এমন হয়, একবার ও সিরি থেকে পরে পা ভেঙে ফেললো আমার অস্থির লাগছিলো ফোন দিলাম বলল পায়ে ভেঙে ফেলেছে।
আরেকবার পহেলা বৈশাখে ১ টা অনুষ্ঠানে গান গাইতে মঞ্চে উঠলাম কিন্তু কেন যেন অস্থির লাগছিলো তাড়াতাড়ি শেষ করে ওকে ফোন করলাম ওর ফ্রেন্ড বলল ও অসুস্থ…শুনে অনেক কাঁদলাম, ও থামাল আমাকে ওই দিনই আমার খুব জ্বর হয়, ওর ফ্রেন্ডের কাছ থেকে ও শুনেও কোনও খবর দিলো না, খুব রাগ হল, অভিমানে ফোন দিলাম না…ফেসবুকে সারাদিন ওর ছবি দেখতাম, ওর ছবি সেভ করে রাখতাম, ৩ মাস আমাদের কোনও কথা হল না… আমার ভাইয়ারা জেনে গেলো সব, খুব মারল আমাকে, যে ভাইয়ারা কোনদিন ধমকও দেয়নি সেই ভাইয়াদের হাতে মার খেলাম!!!
আমার ফোন নিয়ে নিলো, বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো..। আসতে আসতে পরিবেশ হালকা হল ৩ মাস পর, ফোন হাতে পেলাম, হাতে পেয়েই ওকে মেসেজ দেই সাথে সাথে উত্তর পেলাম, আমার খবর জানতে চাইল, ওই দিন সারারাত আমাদের কথা হল, ও কিছুতেই মানতে পারলো না, এরপর আরও দুর্বল হয়ে পড়লো আমার প্রতি, খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি, আমার অপারেশনের দরকার হয় ও বলল ভয় নেই ও পাশে থাকবে, আমায় ঢাকায় নেয়া হল টেস্ট এর পর টেস্ট চলছিলো, আমি সুযোগ পেলে ওকে ফোন দিতাম, সারারাতই লুকায় লুকায় migg এ চ্যাট করতাম, ও ভালো কবিতা লিখতে পারতো আর আমাকে শোনাতো, আমি বললাম আমি মরেও যেতে পারি ও বলল মরেই যদি যাবে তবে এতো মায়ায় ফেললে কেন? কেঁদে ফেললো, এরপর শুরু হল আমার লাইফের কালো অধ্যায়…।
একটা মেয়ে migg এ আমার খবর নিলো ও নাকি আমার সব জানে, আমায় বলল ওরা নাকি জাস্ট ফ্রেন্ড আমি বোকার মতো বিশ্বাস করলাম, অপারেশনের আগের দিন মেয়ে ফোন দিলো বলল ভয়ের কিছু নেই ঠিক হয়ে যাবে সব,সাইফুলকে বললাম মেয়েটা কে সাইফুলও বলল ওরা ফ্রেন্ড আমার অপারেশন হল ওই মেয়ে খালামনির ক্লাছে ফোন দিয়ে খবর নিতো, এরপর আমি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসলাম হঠাৎ সাইফুল বদলে যেতে লাগলো!
আমি ফোন দিলেও ধরত না ধরলেও বলত বিজি, ওই মেয়েকে ফ্রেন্ড ভাবতাম তাই মনের সব কথা ক্লহুলে বলতাম, মাঝে মাঝে খারাপ ব্যাবহার করত, আমার সন্দেহ হতে লাগলো একদিন জিজ্ঞেস করলাম ভালবাসে কিনা সাইফুলকে, ও বলল না, কিন্তু ২ দিন পর বলল সরি ক (আমি) মিথ্যা বলেছি আমি সাইফুলকে ছাড়া বাঁচবো না, ওইদিনই ওই মেয়ে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খায় অনেক খারাপ অবস্থা দেখে আমি কথা দেই আমি সরে যাবো সাইফুলের লাইফ থেকে, সাইফুলকে বললাম কেন এমন করলো ও তো জানত ওই মেয়ে ওকে ভালবাসে মেয়েটিকে কেন আশা দিয়ে রাখলো, আমার সাথেই বা কেন অভিনয় করলো?
ও বলল তোমরা আমায় পাগল বানায় দিচ্ছ, ওই মেয়েকে আমি ভালবাসি না এখন তোমাকেও ভালবাসি না সাইফুলকে বললাম আমি কথা দিছি তাই সরে গেলাম তোমার জীবন থেকে তুমি ওকে ভালোবাসো, ও বলল কাউকে ভালোবাসে না কিন্তু ওরা দুজন সারাদিন ফোনে কথা বলে ফেসবুকে চ্যাট করে, মিগ এ চ্যাট করে। ওই মেয়ে আমায় ফোন দিয়ে খুব বাজে ব্যাবহার করলো আমার সাথে, তবুও আমি মাঝে মাঝে ওকে ফোন দিয়ে সাইফুলের কথা শুনতাম, বলল ওরা খুব ভালো আছে দুজনেই অনেক ভালোবাসে দুজনকে, আমি খুশি ওরা তো সুখে আছে কিন্তু কেন যেন খুব কষ্ট হয়, ওকে মাঝে মাঝে ফোন দিলে রিসিভ করে না, করলেও অনীহা দেখায়।
এখনো ভালবাসি আজ ৪ বছর হল ওকে ভালবাসি, ভুলতে পারি না, অপেক্ষায় থাকি জানি ফিরবেনা তবুও আশায় থাকি, এখনো আমি কিছুটা অসুস্থ কিন্তু সাইফুল কোনও খবরও নেয় না… বলতে পারিনা আমার ভুলটা কোথায়? কেন এমন হল আমার সাথে? (ওরা এখনো আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে তাই নাম চেঞ্জ করে লিখলাম, এখনো প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত ওর আশায় বুক বেঁধে রাখি)

-----------সংগৃহীত।

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...

গুগল পিক্সেল ৩ আসছে বড় স্ক্রিন ও উন্নত ক্যামেরা নিয়ে!!

গুগল পিক্সেল ৩ আসছে বড় স্ক্রিন ও উন্নত ক্যামেরা নিয়ে!! সংগৃহীত- বিভাগ- আইটি টেক নিউজ : 10 অক্টোবর, 2018   নজিরবিহীন সংখ্যক লিকের পর আজ নিউইয়র্কে এক ইভেন্টে নতুন দুটি পিক্সেল ৩ স্মার্টফোন প্রকাশ করল গুগল। এগুলো হচ্ছে পিক্সেল ৩ এবং পিক্সেল ৩ এক্সএল। কয়েক মাস ধরে অগণিত ছবি ও তথ্য ফাঁস হয়ে এসেছে পিক্সেল ৩ ও এর বড় সংস্করণ পিক্সেল ৩ এক্সএল এর। এমনকি, হংকংয়ে একজন তো গত সপ্তাহে বিক্রির জন্যই অফার  করেছে পিক্সেল ৩ ফোন! সাপ্লাই চেইনের প্রয়োজনে কিছু ডিভাইস গুগল আগেই বিভিন্ন পার্টির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। আর সেখান থেকে কিছু বেহাত হয়েছে আরকি। যাইহোক, চলুন দেখে নিই কী নিয়ে আসছে গুগল পিক্সেল ৩ এবং পিক্সেল ৩ এক্সএল। গুগল পিক্সেল ৩ স্মার্টফোনে থাকছে ৫.৫ ইঞ্চি ওএলইডি স্ক্রিন (৪৪৩ পিপিআই, ১৮:৯) ও নচ। পিক্সেল ৩ এক্সএলে পাবেন নচ সহ ওএলইডি ৬.৩ ইঞ্চি স্ক্রিন (৫২৩ পিপিআই, ১৮.৫:৯)। উভয় ফোনেই গত বছরের মডেলের চেয়ে বড় স্ক্রিন দিয়েছে গুগল। এগুলো কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫ দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে। আরও পাচ্ছেন এইচডিআর সাপোর্ট। এবছর গুগল তাদের পিক্সেল ফোনের মূল ক্যামেরায় ১২.২ মেগাপিক্সেল ‘ডুয়ালপিক্সেল’ সিঙ্গেল...