Skip to main content

জিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস। জিন দেখতে কেমন? জিন বশ করার উপায়

জিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস

জিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস। জিন দেখতে কেমন? জিন বশ করার উপায়

জিন জাতি হল আল্লাহ্‌র অনুপম সৃষ্টি। আল্লাহপাক মানুষ ও জ্বীনদের সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদাত বন্দেগী করার জন্য।
জীন শব্দের অর্থ গুপ্ত, লুকায়িত, অদৃশ্য, গোপন। জ্বীনরা অদৃশ্য। মানুষ এদেরকে দেখতে পায় না। জিনরা মানুষদের দেখতে পায়।
আল্লাহতায়ালা জ্বীন জাতি ও শয়তানের সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, ওই অর্থে যে অর্থে মানুষকে সম্পৃক্ত করেছেন কাদামাটি ও শুকনো ঝনঝনে মাটির সাথে। অর্থ্যাৎ মানুষ সৃষ্টির মুল উপাদান কাদামাটি হলেও মানুষ প্রকৃতপক্ষে কাদামাটি নয়।

জিন পরী 

রাসুল (সাঃ) একদা উল্লেখ করেছিলেন শয়তান বলে একটি জ্বীন একদা নামাজের সময় তাঁর সাথে মোকাবেলা করতে এলে তিনি ঐ জিনকে গলা টিপে ধরলে, সেই জ্বীনের থুথুতে রাসুল (সাঃ) শীতলতা অনুভব করেছিলেন (সুরা সাদ -৩৫-৩৮)।
তাই বলা যায় জ্বীনেরা পুরোপুরি দাহ্য নয়।

পৃথিবীতে জ্বীনেরা কবে থেকে আছে

মানুষ সৃষ্টির প্রায় ২০০০ বছর আগে থেকে জ্বীনেরা পৃথিবীতে আছে বলে জানা যায়।
প্রাচীন সেমাইড জাতি জ্বীনে বিশ্বাস করতো।
জ্বীনদের আদি পিতা ‘সামুম’। জ্বীন তৈরী করে আল্লাহ সামুম কে জিজ্ঞাস করেছিলেন ‘তুমি আমার কাছে কিছু কামনা করো’।
সামুম ২টি বিষয় কামনা করেছিলেন।
  • জিন মানুষকে দেখতে পাবে কিন্তু মানুষ জিনকে দেখতে পারবে না।
  • জিনেরা বৃদ্ব বয়সে যুবক হয়ে মৃত্যু বরণ করবে। আল্লাহ পাক সামুমের দুটি চাওয়া পূরণ করেন।

জিন দেখতে কেমন

  • জিনেরা অদৃশ্য এবং খুব দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে।
  • পৃথিবী ছাড়াও অন্য সব গ্রহ নক্ষত্রে জ্বীনেরা চলাফেরা করতে সক্ষম।
  • যে কোন প্রানীর রূপ ধারণ করতে পারে।
  • তারা অন্ধকারে থাকতে পছন্দ করে।

জ্বীনদের আয়ু

মানুষের চেয়ে জিনেরা অনেক বেশিদিন বাঁচে। কারো কারো মতে প্রায় ৫০০ বছর।
তবে ৩০০ বছর বয়সে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়। কারো কারো মতে, পরীদের আয়ু জ্বীনদের চেয়ে বেশি।

পরী কি?

বলা হয়ে থাকে,  জ্বীনদের মধ্যে মহিলারা হলো পরী। পরী নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
অনেকেই পরী দেখার দাবী করেছেন।
ইন্টারনেটে খুজলে কিছু পরীর ছবি ও পাওয়া যায়। এগুলো সত্যি কিনা বলা মুশকিল।
তবে সাহিত্যে বিশেষকরে শিশু সাহিত্যে পরীদের অবস্থান তুঙ্গে।
ডানা কাটা পরী। রূপে তার জলমল চারদিক। কথায় বলে পরীর মত সুন্দর।
পরী কি পরী সাধনা

জিন কত প্রকার

মহানবী (সা.) বলেছেন তিন ধরনের জিন রয়েছে।
  • একদল যারা সর্বদা আকাশে উড়ে বেড়ায়।
  • আরেক দল যারা সাপ ও কুকুরের আকার ধারণ করে থাকে
  • এবং তৃতীয় দল পৃথিবীবাসী যারা কোন এক স্থানে বাস করে বা ঘুরে বেড়ায়। ( বায়হাকি ও তাবরানী)।
জ্বীনরা যে কোন স্তন্যপায়ী প্রানীর রূপ ধারণ করতে পারে। মানুষের রূপ ধরে মানুষের মধ্যে বসাবাস করতে পারে।
মানুষের সাথে এক সাথে খাওয়া দাওয়া ও করতে পারে। সাধারণত খারাপ জিনরা কালো কুচকুচে সাপ বা কুকুরের রূপ ধারণ করে থাকে ।
জ্বীন কত প্রকার
জ্বীনদের নিয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা জিন
পবিত্র কোরআনের ৭২ তম সুরা আল জিন। এই সূরায় জিনদের কথা বলা হয়েছে।

জীন কি খায়

মানুষের মত তারাও খাওয়া দাওয়া করে। তারা মানুষের মত চিবিয়ে খায়। কাজী আবু আয়ালা (রহঃ) বলেছেন যে, জিন মানুষের ন্যায় খাওয়া দাওয়া করে। এরা চিবিয়ে ও গিলে খায়। অনেক সময় মানুষের সাথে বসে খায়। ভালো জিনরা মানুষের উপকার করে থাকে। নবী করীম সা. বলেছেন ‘তোমরা দুটি জিনিস অর্থ্যাৎ হাড় ও গোবর দিয়ে ইসতেনজা (পস্রাবের পর কুলুপ) করো না। কেননা ওগুলো তোমাদের জীন ভাইদের খাদ্য’।(তিরমিযি শরীফ)।

জিন কোথায় থাকে

ভাল জিনেরা নির্জন স্থানে থাকতে পছন্দ করে। বিশেষকরে পাহাড়, পর্বত এমন স্থানে। মানুষের কোন ক্ষতি তারা করে না। খারাপ জিনেরা থাকে ময়লা আর্বজনা, গোসলখানা, পায়খানা ইত্যাদি স্থানে। বাথরুমে যাবার পূর্বে দোয়া পড়ে যাওয়া উত্তম।
জ্বীনদের জীবন যাপন
হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ (রা:) কে কেউ প্রশ্ন করল যে, ‘জ্বিনেরা কি পানাহার ও বিয়েশাদী করে মারা যায়?’
জবাবে তিনি বলেন তারা কয়েক প্রকার। এদের কেউ কেউ বাতাসের ন্যায়। জ্বিনেরা পরস্পর বিয়ে শাদী করে এবং তাদের সন্তান ও জন্মায়। ছেলে মেয়ে মানুষের চেয়ে সংখ্যায় বেশি হয়ে থাকে।

জিন বশ করা

কুরআনের কিছু আয়াত, শব্দ ব্যবহার করে জীন বশ করা হয়। তবে এই মাধ্যমগুলেরা বেশিরভাগই নিষিদ্ধ। ঘরে নামায, কুরআন তেলওয়াত করলে সে ঘরে দুষ্ট জীণ প্রবেশ করতে পারে না। রাসুল (সা:) বলেছেন ‘তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিনত করো না। যে ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করা হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।(সহিহ মুসলিম ৭৮০)।
জিন জাতি বশ করে তার মাধ্যমে কাজ করানো জায়েজ কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। জিন জাতি নিয়ে আমাদের দেশে এক ধরনের ফকির ওঝারা রমরমা ব্যবসা করে। মানুষ ঠকিয়ে এসব ব্যবসার বেশিরভাগই হয় প্রত্যন্ত গ্রামে। সহজ সরল মানুষদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়া হয়। যিনি জিন হাজির করেন। তিনিই জিনের সাথে কথা বলেন। এমনটা ধরা পড়েছে অনেকবার।
জিন পরী ইতিহাস
 জিনের সাথে মানুষের বিয়ে শাদী
জিনের সাথে মানুষের এবং মানুষের সাথে জিনের বিয়ে শাদী হতে পারে। উভয় জাতের মিলনে সন্তান ও হতে পারে। রানী বিলকিসের পিতা মাতার একজন জিন ছিলো।
কথিত আছে যে, বিলকিসের পায়ের অগ্রভাগ চতুস্পদ জন্তুর মতো ছিলো। আর তার পায়ের গোছতে পশম ছিলো। হযরত সুলাইমান (আঃ) তাকে বিয়ে করে জিনকে আদেশ করেছিলেন পায়ের এই অবস্থা ঠিক করে দিতে। আল্লামা সুয়তী (রাঃ). বলেন ‘হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত নবী করীম করীস (সাঃ). এরশাদ ফরমান, বিলকিসের পিতামাতা যে কোন একজন জীন ছিল। হযরত যুবাইর ইবনে মুহাম্মদ (রা:). বলেন বিলকিসের মা ফারিয়াহ জিন জাতির ছিলো।
হযরত কাতাদাহ ও হাসান (রা:). মতে জীনের সাথে মানুষের বিয়ে মাকরূহ।
হানাফী মাযহাব এর মতে জিনদের সাথে বিয়েশাদী জায়েজ নয়।
ইমাম সালাবী (রহঃ) বলেছেন মানুষের বিয়ে এবং গর্ভ হওয়া জিন ও মানুষের উভয়ের মধ্যে ঘটতে পারে।
আল্লামা সালাবী (রহঃ) বলেছেন মানুষ ও জিনেরা যৌথ মিলনজাত বাচ্চাকে বলা হয় খুন্নাস।
অমুসলিম জিন
জিনরা সকলে মুসলিম নয়। তাদের মধ্যে অমুসলিম জিন রয়েছে। মুসলিম জিনরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। গভীর রাতে একাকী মসজিদে অনেকেই জিনদের দেখেছেন বলে জানা যায়। মানুষের আকৃতিতেই তারা নামাজ পড়ে থাকে।

জিনেরা ভবিষ্যৎ জানে কি?

জিনরা গায়েবের খবর জানে না। ভবিষ্যৎ জানে না। কোনভাবেই মানুষের চেয়ে জিন জাতি শ্রেষ্ঠ নয়। মানুষ আল্লাহর সেরা সৃষ্টি। আশরাফুল মাখলুকাত। তবুও মানুষ জিনদের শরণাপন্ন হয়। ভবিষ্যৎ জানতে চায়। এটা শুধু একটা ভুল নয়। শিরক এর মত জঘন্য গুনাহ।
জিনদের বুদ্বিমাত্রা কতটুকু। তারা ভবিষ্যত জানে কিনা। আমরা তার প্রমাণ পাই হযরত সুলাইমান (আঃ) এর মৃত্যুর ঘটনার পরে।
পবিত্র কোরআনে সুরা সাবার ১৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে, যখন আমি সুলাইমান এর মৃত্যু ঘটালাম তখন জিনদের কে তার মৃত্যু বিষয় জানালো শুধু মাটির পোকা (উইপোকা) যা সুলাইমান এর লাঠি খাচ্ছিলো’।
যখন সুলাইমান (আঃ) পড়ে গেলেন তখন জিনেরা বুঝতে পারলো যে, তারা যদি অদৃশ্য বিষয় জানতো তাহলে লাঞ্চনাদায়ক শাস্তিতে আবদ্ব থাকতো না। বলা বাহুল্য, মুসলিম জগতের ইতিহাসে হযরত সুলাইমান (আঃ) সবচেয়ে বেশি জিনদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তার কথার অবাদ্ধ কোন জীন হতোনা।
একটি লাঠির উপর ভর করে সুলাইমান (আঃ) জিনদের নির্দেশনা দিতেন এবং কাজ করাতেন।
ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে যেত জিন জাতি। যখন সুলাইমান (আঃ) মারা যায় তখনও জিন জাতি বুঝতে পারেনি।
বুঝতে পেরেছিলো যখন উইপোকা তার লাঠি ক্ষয় করে ফেলে এবং উনার দেহ মাটিতে পড়ে যায়।
জিনদের হত্যা করা
রাসুল (সাঃ) বলেছেন মানুষের বাড়িঘরে জিনেরা থাকে। এদের মধ্যে কাউকে তোমরা যখন দেখবে তো তিনবার তাকে বের করে দেবে। এতে যদি সে চলে যায়, তো ঠিক আছে। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলবে। কারণ (যে জীন এমন করে) সে কাফির হয়ে থাকে।

জিন তাড়ানোর কার্যকর দোয়া

জিন তাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর দোয়া হল আয়াতুল কুরশী। এটা প্রমাণিত হয়েছে বহুবার বহুজনের কাছে। তারা মৃগী রোগীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
জিনে আছর করলে ওই ব্যক্তির আচারণে ব্যাতিক্রম দেখা যায়।
চোখ বড় হয়ে যায়। শরীরে শক্তি বৃদ্বি পায়। আলো সহ্য করতে পারে না। গলার শব্দের পরিবর্তন আসতে পারে।
আযানের সময় অস্থির হতে পারে। রাতে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে পারে। তার খাওয়া দাওয়া ব্যাহত হতে পারে। কোন কোন সময় গায়ে জ্বর আসতে পারে।
এ সময় আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি শয়তানের পক্ষ হতে কোন প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয়  চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বজ্ঞ( সুরা আল আরাফ, আয়াত ২০০)।
সুরা নাছ ও ফালাক হলো জিনদের  আছর থেকে বাচার মূল্যবান পথ।

তথ্যসূত্র ঃ জীন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস
লেখকঃ আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়তি
মদীনা প্রকাশনী
----- সংগৃহীত।

Comments

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...