Skip to main content

রেডিও টেলিস্কোপ বা বেতার দূরবীক্ষণ।



রেডিও টেলিস্কোপ বা বেতার দূরবীক্ষণ ।

অ্যাস্ট্রোনমি(Astronomy) বা জ্যোতির্বিদ্যার কাজ হল মহাকাশের কোন বস্তুর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।পারতপক্ষে জ্যোতির্বিদ্যার কাজ শুধুমাত্র মহাকাশের কোন বস্তুর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাই না বরং জ্যোতির্বিদ্যার মাধ্যমেই আমরা মহাবিশ্বের গঠন ও সৃষ্টিতত্ত(Cosmology) সম্পর্কে জানতে পারি।আর এই অ্যাস্ট্রোনমি(Astronomy) বা জ্যোতির্বিদ্যার সবচে বড় হাতিয়ার হল টেলিস্কোপ বা  দূরবীক্ষণ।কিন্তু সব রকম টেলিস্কোপ দিয়ে তো আর মহাকাশের সব বস্তু দেখতে পাওয়া যায় না।মহাকাশের কোন কোন  বস্তুর সম্পর্কে তথ্য নিতে গেলে আমরা শুধুমাত্র আলোক টেলিস্কোপ দ্বারা তা পারব না।আলোক টেলিস্কোপ  হল সেই টেলিস্কোপ যেগুলো আলোক রশ্নি ব্যবহার করে কাজ করে।কিন্তু মহাকশের বিশেষ কিছু জায়গা থেকে আলো সরাসরি আমাদের পৃথিবীতে আসতে পারে না অনেক সময়।এর জন্য দায়ী হল কসমিক ধুলো বা মহাজাগতিক ধুলো ও অন্যান্য মহাকাশীয় বাধা।কিন্তু বেতার তরঙ্গ যেহেতু অনেক বাধা অতিক্রম করতে পারে তাই কসমিক ধুলা ও অন্যান্য বাধার মাঝেও অনেক উৎসের খোঁজ পাওয়া যায়, যা সাধারনত অপটিক্যাল বা আলোক টেলিস্কোপ এ সম্ভব না।এসব টেলিস্কোপ বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে কাজ করে।রেডিওর নব ঘুরিয়ে আমরা যেমন নানা ধরনের স্টেশন  নির্বাচন  করে থাকি,  তেমনি রেডিও টেলিস্কোপ টিউনিং করেও আমারা বিভিন্ন মহাকাশীয় বস্তুর সন্ধান করতে পারি।রেডিও টেলিস্কোপ বা বেতার দূরবীক্ষণ এর সাহায্যে হাজার হাজার নতুন মহাকাশীয় বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে।এর মধ্যে অন্যতম হল পালসার।এরা মুলত ঘূর্ণায়মান নিউট্রন তারকা।এই রেডিও টেলিস্কোপ বা বেতার দূরবীক্ষণ এর সাহায্যে আরও একটি নতুন মহাকাশীয় বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে , তা হল কোয়াসার।কোয়াসার বলতে কোয়াসি স্টেলার রেডিও সোর্সকে বোঝায়।এসব  কোয়াসারে কোটি কোটি তারার সহ-অবস্থান রয়েছে।তবে সকল কোয়াসারই রেডিও তরঙ্গের উৎস নয়।তাছারাও বিজ্ঞানীরা কিছু কিছু গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন যেগুলো প্রতিনিয়ত রেডিও তরঙ্গ নিঃসরণ করে চলেছে।এসকল মহাকাশীয় বস্তুর সন্ধান রেডিও টেলিস্কোপ ছাড়া সম্ভব  হত না।তাই এই রেডিও টেলিস্কোপ বা বেতার দূরবীক্ষণ ছাড়া আধুনিক অ্যাস্ট্রোনমি(Astronomy) এক কথায় বলতে গেলে অচল।এই বেতার দূরবীক্ষনের আবিস্কারের ইতিহাসটা অবশ্য একেবারেই আকস্মিক।১৯৩২ সালে একজন প্রকৌশলী, নাম কার্ল জাকিন্স , তিনি ট্রান্স আটলান্টিক টেলিফোন লাইন চেক করছিলেন।হঠাৎ করে তার রেডিও গ্রাহকযন্ত্রে কিছু শব্দ বা গুঞ্জন ধরা পরে।এবং শত চেষ্টা করেও তিনি তার উৎস খুজে পান নি।পরে তিনি বুজতে পারেন যে এই বেতার সংকেত এর উৎস মহাবিশ্ব থেকে আগত কোন বেতার উৎস।সেই থেকেই মুলত রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি(Astronomy) বা বেতার জ্যোতির্বিদ্যার শুরু।আর এখন এই যন্ত্র ছাড়া তো জ্যোতির্বিদ্যাই অচল প্রায়।
----Collected.

লিখাটি নিয়ে আপনার অভিমত কি?

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...

ড্রাই আইস কী?

ড্রাই আইস আকর্ষ ণ  সৃষ্টির জন্যে বিভিন্ন সময় গানের স্টেজে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় কুয়াশার মত ধোঁয়া দেখতে পাই আমরা। এটা আসলে ড্রাই আইস বা শুষ্ক বরফ নামেই পরিচিত। তার মানে কি এটা কঠিন পানি? কিন্তু পানি কঠিন হলে কি সেটা ধোঁয়ার মত উড়বে? ড্রাই আইস প্রথমে ড্রাই আইস কি সেটা বলি। সহজে বললে, শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে আমরা জানি। তাহলে এই কঠিন পদার্থটি আবার ধোঁয়ার মতই উড়বে কিভাবে? আসলে ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। ব্যাপার হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তা...

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল)

ভয়ংকর ভূতের গল্প (চুড়েল) অক্টোবর 01, 2018 : বিভাগ- ভৌতিক / ভয়ংকর গল্প গল্প লিখেছেন :  সংগ্রহীত তখন আমি সিলেট বিভাগের জেলা ছাতকের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকতা। আমাদের অফিসটা ছিল সুরমা নদী কোল ঘেষে। গাছগাছালী ঘেরা ছায়া মনোরম এক পরিবেশ । আমার অফিস থেকে একটু হেটে কিছুদুর গেলেই সুরমা নদীর পাড়ে ঘেষে একটা শশ্মান। ঐ শশ্মানে একটা মানুষ প্রমান কালীর মূর্তি ছিল । কালীর মূর্তিটার সারা শরীর ছিল কালো রংয়ের ছিল । পরনেও ছিল কালো রংয়ের একটা শাড়ি। পিছনে কালো এলোমেলো চুল গুলো নিতম্ব ছেড়ে নিচে নেমেছে। এক হাতে ত্রিশুল , আরেক হাতে একটা সাপ । মুখ থেকে অনেকটা বেরিয়ে থাকা লাল রংয়ের জিব্হাটা মুখ থেকে ভয়ংকর ভাবে বের হয়ে বুক ছুয়েছে। চোখ দুটি টকটকে লাল। ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলা মুর্তিটাকে দেখলে তেমন একটা ভয় লাগত না , কিন্তু সন্ধ্যা বেলা পড়ন্ত সূর্যের আলোয় দেখলে বুকের ভিতর অজানা এক ভয়ের শিহরন জাগত। তখন মনে হত ওটা মুর্তি নয়, সত্যি জীবন্ত ভয়ংকর এক মানবী । আমি শিহরীত হওয়ার জন্য প্রায় সন্ধ্যা বেলায় যেতাম। আমার এভাবে ওই সময় প্রায় যেতে দেখে অফিসের দাড়োয়ান একদিন ব...