Skip to main content

হৃদরোগের যে ৯টি অপ্রত্যাশিত লক্ষণ আপনার জানা দরকার

হৃদরোগের যে ৯টি অপ্রত্যাশিত লক্ষণ আপনার জানা দরকার

সংগৃহীত-   27 সেপ্টেম্বর, 2018 09:39


হৃদরোগের যে ৯টি অপ্রত্যাশিত লক্ষণ আপনার জানা দরকার
বুকের ব্যাথা, ক্লান্তি এবং অবসাদ সহ হৃদরোগের বেশ কিছু লক্ষণ এখন আমাদের প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু এছাড়াও হৃদরোগের কিছু অপ্রত্যাশিত লক্ষণ আছে যেগুলো সম্পর্কে আপনাকে সজাগ হতে হবে। যদি অকালেই হার্ট অ্যাটাকে মরতে না চান। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী সেই লক্ষণগুলো।
১. যৌন দুর্বলতা
আপনি নারী বা পুরুষ যাই হোন না কেন বেডরুম ডিপার্টমেন্টে সমস্যা হলে তা আপনার জন্য খুবই বিব্রতকর বা হতাশাজনক হতে বাধ্য। সাধারণত লোকে মনে করেন পুরুষদের লিঙ্গোত্থানে সমস্যা এবং নারীদের যৌন শীতলতা অন্য নানা কারণেও হতে পারে। তবে হৃদপিণ্ডের সমস্যার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়লে তা যৌনাঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত পাম্প করে সরবরাহ করতে পারে না। যার ফলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
২. উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এমন একটি কন্ডিশন যাতে ধমনীগুলোর বিপরীতে রক্তের প্রবাহ খুবই উচ্চ হয়। যার ফলে নানা নেতিবাচক লক্ষণ দেখা দেয়। এখন অনেকেই জানেন যে উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের লক্ষণ। তবে এটি একটু ভিন্ন রকমও হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান কোনো হৃদরোগের লক্ষণ! অর্থাৎ হৃদরোগের কারণেই উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়েছ!
৩. অনবরত কফ কাশি
কফ হলো ভাইরাল ফ্লু বা শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার লক্ষণ। ফলে লোকে কখনোই একে হৃদরোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে দেখেন না। তবে যখন হৃদপিণ্ড আপনার ফুসফুসে যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত পাম্প করে সরবরাহ করে না তখন ফুসফুস শুকিয়ে যেতে পারে এবং আপনার অনবরত কফের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং এটিও হৃদরোগের একটি লক্ষণ।
৪. শ্বাসকষ্ট
আপনার যদি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয় বা আপনার যদি বুকে কোনো কিছু জমাটবদ্ধতা বা আটকে পড়ার অনুভূতি হয় তাহলে তা যে সবসময়ই শ্বাসজনতি সমস্যা হবে তা নয়। বা নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় সাঁ সাঁ করে শব্দ হয় তাও যে সবসময় শ্বাসজনিত সমস্যা এমনটা ভাবা ঠিক নয়। বরং ফুসফুসে রক্ত সরবরাহ কমে গেলেও এমনটা হতে পারে। অর্থাৎ হৃদপিণ্ড আপনার ফুসফুসে পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে না। আর সে কারণেই এমন সব সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
৫. দেহে লোম কমে যাওয়া
এই লক্ষণটির কথা শুনে হয়তো আপনি বিস্মিত হতে পারেন। কেননা অনেক নারীই আজকাল পুরোপুরি লোমমুক্ত দেহ পেতে চান। তাই না? যাইহোক দেহে কিছুটা পরিমাণে লোম থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখনই আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার দেহের লোমগুলো উধাও হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে পুরুষদের বেলায় যা হঠাৎ করেই ঘটে; তাহলে তা হতে পারে হৃদরোগের লক্ষণ। হৃদপিণ্ড ঠিক মতে রক্ত পাম্প করতে না পারায় রক্তসরবরাহ কমে যওয়ায় এমনটা ঘটতে পারে।
৬. পা ফোলা
ওজন বাড়া, গর্ভধারণ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা কারণে পা এবং পায়ের পাতা ফোলার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি হতে পারে কোনো হৃদরোগের লক্ষণ। কেননা আপনার হৃদপিণ্ড যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত আপনার পায়ে পাম্প করে সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে শিরা-উপশিরাগুলো থেকে রক্তের বদলে অন্যান্য তরল পদার্থ অতিরিক্ত হারে পা এবং পায়ের পাতায় প্রবেশ করছে। এবং ফুলে উঠছে।
৭. ঘাড় ব্যথা
লোকে অনকে সময় ভাবতে পারে যে, ঘাড়ে ব্যথা হয় সাধারণত বেঠিক অঙ্গভঙ্গি, কাজের সময় ঘাড় মচকানো প্রভৃতি কারণে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে ঘাড়ে ব্যথা হতে থাকে তাহলে তা হতে পারে ‘অ্যানজিনা’ নামের হৃদরোগের লক্ষণ। ঘাড়ে ব্যথা এই রোগের একটি লক্ষণ।
৮. মাড়ি ফোলা
অনেকেই মনে করেন যে, মুখের স্বাস্থ্য খারাপ হলে বা ক্যাভিটিস এর কারণে মাড়ি ফোলা দেখা দেয়। তবে রক্ত সরবরাহ কমে গেলেও দাঁতের মাড়িতে প্রদাহ হতে পারে এবং তা থেকে মাড়ি ফুলে যেতে পারে। তার মানে মাড়ি ফোলা বিদ্যমান কোনো হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে।
৯. বমি
বমি সাধারণত খাবার হজমপ্রক্রিয়ার সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সমস্যা। তবে এটি হৃদরোগেরও লক্ষণ হতে পারে। রক্ত সরবরাহ কমে গেলে বুকে এবং পাকস্থলিতে সংকোচন হতে পারে যা থেকে বমির অনুভূতি হতে পারে বা বমির উদ্রেক করতে পারে।

Popular posts from this blog

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্

বাঘ ও হরিণ: শিক্ষামূলক গল্প - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - এক বনে ছিল এক হিংস্র বাঘ। সে যেকোনো প্রাণীকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়তো। কাউকে সে মানতো না। একদিন এক নিরীহ হরিণ সেই বাঘের কবলে পড়লো। হরিণটা অনেক যুদ্ধ করেও পালাতে পারলো না। বাঘ মাত্র ওকে সুবিধামতো কামড় বসাবে। এমন সময় হরিণের মাথায় একটা বুদ্ধি আসল। হরিণ বলল, “ওহে বাঘ। তুমিতো সবাইকেই খাও। আমায় না হয় ছেড়ে দাও। আমার মাংস খেলে তোমার একটুও পেট ভরবে না। তার চেয়ে বরং বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেকগুলো গরু দিবো। তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে তোমার।” বাঘ কথাটা শুনে ভেবে দেখল কথাটাতো মন্দ না। তাই সে হরিণটাকে ছেড়ে দিল। পরে হরিণ চলে গেল সেখান থেকে। আর বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু চালাক হরিণকে আর পায় কে? হরিণতো তার উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জীবনে রক্ষা পেল। তাই গায়ের জোর না থাকলেও বুদ্ধির জোর সবচেয়ে দামি। এই গল্প থেকে আমরা অনেকগুলো শিক্ষা নিতে পারি: 1। কাউকে সহজেই বিশ্বাস করা ঠিক না। সহজেই বিশ্বাস করাটা বোকামি। 2। বিপদে পড়লে ভয় না পেয়ে বরং ভয়টাকে জয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। 3। গায়ের শক্তি না থাকলেও বুদ্ধির জোর দিয়ে ...
মহাবিশ্বের রহস্যাবৃত কিছু ঘটনা (পর্ব-১) সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮   - বিচিত্র - ব্যাতিক্রমী ও রহস্য কাল পরিক্রমায় পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যাতে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরাও পর্যন্ত অবাক হয়ে যান। যার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত দিশেহারা হয়ে পড়েন। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু র হস্যাবৃত বা আশ্চর্য  ঘটনা ঘটেছে যার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা ব্যর্থ হয়েছেন। এই ঘটনা গুলো ঘটেছে তারপরই ঘটনা গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গবেষণা হয়েছে কিন্তু ঘটনাটি কেন ঘটলো বা কি কারণে ঘটলো তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ পাওয়া যায় নি। ফলে ঘটনাগুলো সবার কাছে শুধুই রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।  আসুন আমরা সেই সব আশ্চর্য ঘটনা গুলোর মধ্য থেকে কিছু ঘটনা জানার চেষ্টা করি। ১.  ( হারিয়ে যাওয়া ১০ মিনিট ) এক চমৎকার রৌদ্রজ্জ্বল দিনে আমেরিকার মিয়ামী বিমানবন্দর থেকে এক টি বিমান  বৈমানিক ও যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়াল দেয়। নিচে কন্ট্রোল রুম থেকে রাডারের সাহায্যে বিমানটিকে পর্যবেক্ষন করছিলেন অপারেটরগন। হঠাৎ রাডার স্ক্রিন থেকে ব...

বিগব্যাঙ নিয়ে ভুল ধারণা!

বিগব্যাঙ নিয়ে ভুল ধারণা বিগব্যাঙ কি? বিখ্যাত একটি তত্ত্ব। বিজ্ঞানে সর্বাধিক উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি। শুধু তাই না, পৃথিবীর সবচাইতে ভুল ভাবে বোঝা বিষয়গুলোরও একটি হলো বিগব্যাঙ। বিগব্যাঙ সম্পর্কে আমরা সাধারণ মানুষ হয়তো নাম শুনেই যথাযথ সম্মান জানিয়ে দুরে থাকি। কিংবা, এমন কিছু আবছা ধারনা রাখি যা আসলে ভুল, মহাভুল। আমারা যেই মহাবিশ্বে বাস করি তার কিভাবে উৎপত্তি হলো? মহাবিশ্বের সৃষ্টির আগে কি ছিল? এই প্রশ্ন মানুষ অনেক আগে থেকেই করে আসছে। পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে  বিগব্যাঙ  তত্ত্ব এই প্রশ্নের উত্তর দেয়? যদি এরকমটাই ভেবে থাকেন তাহলে এখনই এ ধারণাটা মাথা হতে ঝেড়ে ফেলে দিন! আসলে এই মহাবিখ্যাত তত্ত্বটির মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই। এই তত্ত্ব আরো যে সব চিরায়ত, অবাক করা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করে না সেগুলো হলো: =>  কি, কিংবা কোন শক্তি মহাবিশ্বের উৎপত্তির সূচনা করেছিলো? বিগব্যাঙ নয়, ইনফ্লুশন থিউরী এর একটি ব্যাখ্যা দেয়। =>  বিগব্যাঙের আগে কি ঘটেছিলো? =>  মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে? =>  মহাবিশ্বের আকৃতি কেমন? এ বিষয়টি অনেক তত্ত্ব...